তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অবশেষে ভারত সরকারের জি.আই ট্যাগ পেল বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহি পাঁচমুড়ার টেরাকোটার ঘোড়া সহ অন্যান্য শিল্প সামগ্রী। এই খবর তালডাংরার গ্রামে আসা মাত্রই খুশির জোয়ার এখানকার কুমোর পাড়ায়।

এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর আর কেউ অন্য জায়গায় তৈরি মাটির ঘোড়াকে ‘পাঁচমুড়ার ঘোড়া’ বলে বিক্রি করতে পারবেন না। শিল্প রসিক মানুষের ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকবেনা বলেই এখানকার শিল্পীরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: ১৬৪ বছরে এই প্রথম! ব্যাপক বজ্রপাত হতে চলেছে এখানে

বাঁকুড়ার বিভিন্ন অংশে মাটির ঘোড়া তৈরি হলেও তালডাংরার ‘পাঁচমুড়ার ঘোড়া’ জগৎ বিখ্যাত। এখানে তৈরি ঘোড়ার মূল বৈশিষ্ট হল দীর্ঘ গলা। একই সঙ্গে সুদৃশ্য ব্যতিক্রমী গঠন শৈলীর জন্যই এই ঘোড়া আজ গোটা পৃথিবীর মন জয় করে ফেলেছে।

একটা সময় মূলত ধর্ম ঠাকুর, মনসা বা অন্যান্য গ্রামীণ দেবতার পূজোয় এই ঘোড়া উৎসর্গীকৃত করা হলেও বর্তমান সময়ে তা উচ্চবিত্ত সমাজের কাছে ঘর সাজানোর অন্যতম বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটির ঘোড়ার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে বিশ্বের বাজারে পাঁচমুড়ার টেরাকোটার তৈরি জিনিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আরও পড়ুন: নজির গড়ে দেশের বুকে তৈরি হচ্ছে প্রথম ‘অ্যাসমিট্রিক্যাল’ ব্রিজ

সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার শিল্পীরা টেরাকোটার গয়নাগাটি থেকে শুরু করে সুদৃশ্য কাপ, প্লেট, থালা-বাটি-গ্লাস, ফুলদানি, মোমদানি, প্রদীপ, টাইলস্, গৃহসজ্জার বিভিন্ন ধরণের উপকরণ, বিখ্যাত মনিষীদের মূর্তি এমনকি বাজানো যাবে পোড়া মাটির তৈরি এমন শাঁখও।

স্থানীয় শিল্পীরা জানালেন, এখানে তৈরি বিভিন্ন ধরণের শিল্প সামগ্রির চাহিদা প্রতিদিন বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন শিল্প মেলা ও হাটে নিজেরা গিয়ে বিক্রির পাশাপাশি বাইরে থেকে পাইকারি ক্রেতারা এসেও এখান থেকে শিল্প সামগ্রি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অবশেষে পাঁচমুড়ার টেরাকোটা শিল্প জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় খুশি সকলেই।

আরও পড়ুন: ‘রাম মন্দিরের নামে টাকা তুলছে বিজেপি’, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

এবার জি.আই ট্যাগকে অবলম্বন করে শিল্পীরাই সরাসরি বিশ্বের বাজারে নিজেদের তৈরি শিল্প সামগ্রি সরবরাহ করতে পারবেন বলে তারা আশাপ্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য জায়গায় তৈরি টেরাকোটা সামগ্রি এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর ‘পাঁচমুড়ার’ বলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির অপচেষ্টাও দূর হবে। এমনটাই আশা করছেন শিল্পীরা।

টেরাকোটা শিল্পী কুম্ভকার জানান, জি.আই স্বীকৃতি পাওয়ার পর কিছুটা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের বাড়বাড়ন্ত কমবে। একই সঙ্গে এখানকার শিল্পীদের পরিচালিত সমবায় সমিতি দ্বারা এখানকার শিল্পকর্ম বিক্রির চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান। এরফলে শিল্পী এবং ক্রেতা এই দুইয়ের মাঝে কোন তৃতীয় পক্ষ না থাকার ফলে আখেরে ক্রেতা সাধারণই উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শূন্য হয়ে আসছে ভান্ডার! এরই মধ্যে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম

বাঁকুড়ার বিখ্যাত বিষ্ণুপুরের বালুচরী শাড়ির পর পাঁচমুড়ার টেরাকোটা জি.আই স্বীকৃতি মেলায় স্বভাবতই খুশি আপামর বাঁকুড়াবাসী। এর ফলে চিরকালের জন্য টেরাকোটা শিল্প যে পাঁচমুড়ার পাশাপাশি বাঁকুড়ার নিজস্ব ব্র্যাণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেল সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয় এই জি.আই স্বীকৃতিকে অবলম্বন করে পাঁচমুড়ার এই টেরাকোটা শিল্প কতটা লাভবান হয়। আর সেদিকেই তাকিয়ে এখানকার শিল্প থেকে শিল্প রসিক সাধারণ মানুষ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।