স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: মকরসংক্রান্তির প্রাক্কালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৈকত শহর দিঘায় শুরু হল গঙ্গোৎসব। একদিকে যেমন গঙ্গোৎসব তেমনই অপরদিকে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে, দিঘার সৈকতে ভিড় জমাছেন জেলা থেকে জেলার বাইরের হাজার হাজার মানুষ। অন্যদিকে, সৈকত শহরে আগত সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে সদা সতর্ক রয়েছে জেলার পুলিশ প্রশাসন।

এদিন সন্ধ্যায় রাজ্যের অন্যতম সৈকত শহর দিঘায় শুরু হয়েছে গঙ্গোৎসব। এদিনের এই গঙ্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী সর্বলোকানন্দজী মহারাজ। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরাও।

প্রতিবছর এই গঙ্গোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান এখানে। গঙ্গোৎসবের দিনগুলিতে দিঘা যেন হয়ে ওঠে এক টুকরো বারাণসী। সমুদ্রসৈকতে শঙ্খধ্বনি ও বেদ মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে দিঘায় বারাণসীর আদলে, বাইরে থেকে আসা সাধুদের হাতে হয় বিশেষ সমুদ্র আরতি। আকর্ষণীয় এই আরতী দেখতে দিঘায় ভিড় জমান আট থেকে আশি সবাই।

একদিকে গঙ্গোৎসবের ভিড়, অপরদিকে বুধবার ভোরে সৈকত শহরে নামবে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের ভিড়ও। আর তাই সমগ্র দিঘা জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এই বিষয়ে, কাঁথি মহকুমা পুলিশ সুপার অভিষেক চক্রবর্তী বলেন, “সমুদ্র তীরবর্তী থানা গুলির তরফ থেকে সকাল থেকেই বিশেষ পুলিশ মোতায়েন করা থাকবে। এছাড়াও সমুদ্র এলাকায় কোনও রকম দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য রাখা হয়েছে নুলিয়া ব্যবস্থাও। আমরা আবেদন জানাচ্ছি দর্শনার্থীরা যেন কোনও রকম প্রানের ঝুঁকি না নেন।”

বুধবার সকালে পুণ্যস্নানের সময় দর্শনার্থীদের ওপর নজরদারি চালাতে দিঘার ওয়াচটাওয়ার গুলির মাধ্যমে চালানো হবে বিশেষ নজরদারিও। এবারের দিঘায় পুণ্যস্নান করতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সি ফুড ফেস্টিভ্যাল। দিঘা গঙ্গোৎসব প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে এই সি ফুড ফেস্টিভ্যালের। তবে এবারের এই সিফুড ফেস্টিভ্যাল এবং দিঘা গঙ্গোৎসবে কোনও ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে না প্লাস্টিক ও থার্মোকলের। এর বদলে এবারের গঙ্গোৎসবে ব্যবহার করা হবে কাগজের থালা- গ্লাস- বাটি এবং চটের ব‍্যাগ।

ইতিমধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে বেশ কয়েকবার প্রচার চালিয়েছে দিঘা মৎস্যজীবী এবং মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি। দিঘা মৎস্যজীবী এবং মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে এই গঙ্গোৎসব চলবে এক সপ্তাহ ধরে। যার জন্য সমুদ্রতটে বসেছে এক বিরাট মেলাও।

মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস জানান, “এবারের আমাদের গঙ্গোৎসব একেবারেই পরিবেশবান্ধব। প্লাস্টিকের বদলে ব্যবহার করা হবে কাগজের থালা- বাটি। যেহেতু আমাদের সব ধরনের কাজ সমুদ্রকে নিয়েই তাই সমুদ্র দূষণ রুখতে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।”

শুধু তাই নয়, গঙ্গোৎসবের মূল মন্ডপ তৈরি করা হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দিরের আদলে। যার মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে মন্ডপের গায়ে তুলে ধরা হয়েছে পরিবেশ সচেতনতা ছবি। একদিকে পুণ্যস্নান এবং অপরদিকে গঙ্গোৎসব। আর সবমিলিয়ে এখন জমজমাট দিঘা সৈকত। নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত পুলিশ-প্রশাসনও।