তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: করোনার জের। ইতিমধ্যে লকডাউনের ৫০ দিন পার করে ফেলেছি আমরা। রাস্তাঘাট প্রায় জনমানব শূণ্য। আর এই করোনা পরিস্থিতিতে এবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের গোপালগঞ্জের ‘বুড়ো শিবের গাজন’ বেরঙিন।

সরকারি নির্দেশে প্রায় লোকশূণ্য অবস্থাতে ধর্মীয় উপাচার মেনে পুজোপাঠের মধ্য দিয়েই একেবারে জৌলুসহীনভাবে পুজো হলো। এই ঘটনায় মন ভালো নেই বিষ্ণুপুরবাসীদের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এছাড়া আর অন্য কোন পথ নেই। তাই মন চা চাইলেও বিষয়টি সকলে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

কথিত আছে, বহু বছর আগে পঞ্জাব থেকে এক মৌনীবাবা বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা হয়ে বিষ্ণুপুর শহরে আসেন। শহরের গোপালগঞ্জে তৈরি করেন আশ্রম। যা ‘তুর্কি আশ্রম’ নামেই পরিচিত। ওই মৌনী বাবা কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। সারাদিন পুজো পাঠ নিয়েই থাকতেন। পরে তাঁরই উদ্যোগে বৈশাখের শেষে এখানে বুড়ো শিবের গাজন শুরু হয়। যা আজ একশো বছর পরেও অব্যাহত।

কিন্তু এবার করোনার উপস্থিতি সব যেন এলোমেলো করে দিল। মাত্র পাঁচ জন সন্যাসীকে নিয়ে চার দিনের এই গাজন শুরু হয়েছে। যারা পুজো দিতে এসেছিলেন তারাও নিজেদের মধ্যে যথেষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রবীণ শহরবাসী বিজয় চন্দ্র সাহা বলেন, “গামিরকাটা, রাজাভাটা, রাত গাজন ও দিন গাজন মিলিয়ে মোট চার দিন গাজন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। একশো বছরেরও বেশী আগে জনৈক মৌনীবাবা এই গাজন উৎসবের সূচণা করেন।”

স্থানীয় কাউন্সিলর উদয় ভকত বলেন,সরকারি নির্দেশ মেনে জনসমাগম ঠেকাতে এবার বাবা বুড়ো শিবের গাজন স্থগিত রাখা হয়েছে। এবার গাজন না হওয়ায় গোপালগঞ্জবাসী প্রিয়জন বিয়োগের যন্ত্রণা অনুভব করছেন বলে তিনি জানান।

ভক্ত সন্যাসী মদন মোহন বন্দোপাধ্যায় বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার পাট ভক্ত্যা সহ পাঁচজন সন্নাসীকে নিয়েই গাজন পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে খুব শীঘ্রই এই পরিস্থিতিতে মুক্তি পাওয়ার পর আগামী বছর মহাধুমধামে গাজন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী বলে জানান।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প