শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : মঙ্গলবার যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তীকে “কুজন” বলে বিঁধেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে যাদবপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদারকে পাশে বসিয়ে বলেছেন, “দেবব্রত আসলে খুব ভালো ছেলে। আগে ও বিজেপি করতো। ও জানে বিজেপি দলটা আসলে কী। তাই ও ঙ্কেডিন আগেই তৃণমূলে চলে এসেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুজনকে “কুজন” বলে দেগে দেওয়া যাদবপুরের মানুষ কী বিশ্বাস করেন? এই নিয়ে কথা হচ্ছিল এলাকার  মানুষের সঙ্গে। তাঁরা বললেন, “তৃণমূল এমন একটা দল যারা কুৎসা করতে সিদ্ধহস্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে প্রধান ভূমিকা নেন। এই তো করোনা চলছে। করোনা যখন প্রবল ভাবে চলছে তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা “কুজন”-ই আমাদের সুজন ছিলেন। কাজেই সুজন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসব কথা টিকবে না।

যাদবপুরে সুজন চক্রবর্তী জিতেছেন। এটা নিয়ে সিপিএম-এর অন্তত কোনও সংশয় নেই। তাই নিশ্চিন্তে সুজনবাবুও তাঁকে প্রচারে বার হওয়ার পর যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নানান অঞ্চলের মানুষ যখন প্রশ্ন করছেন, “দাদা জিতেছেন তো?” সঙ্গে সঙ্গে সুজনবাবু উত্তর দিচ্ছেন, কেন যদি না জিতি কী হবে?” উত্তর এলো, “খুব ক্ষতি হয়ে যাবে।” আসলে যাদবপুরের মানুষ করোনা, আমফানের সেই ভয়াবহ দিনগুলির কথা এখনও ভুলতে পারেননি। সেই সময় থেকে সুজনবাবুরা যাদবপুর এলাকায় শ্রমজীবী ক্যান্টিন চালু করেছেন। যা এখনও চলছে। মানুষের আশা, ভরসার একমাত্র জায়গা সেদিন সিপিএম-ই ছিল যাদবপুরে। এটা এলাকার মানুষ বলছেন। তাদের মতে, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, নরেন্দ্র মোদীকে টিভি-তে করোনার সময় দেখেছি। সুজনদাকে কিন্তু পাশে পেয়েছে। তাই তাঁকেই আমরা পাশে রাখতে চাই।”

তৃণমূলের পুরোপিত ও এমএমআইসি দেবব্রত মজুমদার যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর কাজে যাদবপুরের মানুষ ক্ষুব্ধ। সেটা প্রমাণ হয়েছে প্রচারে প্রচারে বেরিয়ে বিজয়গড় এলাকায় পানীয় জলের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়ার ঘটনায়। তৃণমূলকে এই কেন্দ্রে ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছেন না সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায় তৃণমূল মানুষের কাছে অসহ্য হয়ে উচেছে। আর বিজেপি ক্ষতিকারক। কে কোন দলে থাকবেন সেটি ওরা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি।”

তবে এর পরেও বিজেপি প্রার্থী রিংকু নস্কর, যিনি সিপিএম থেকে সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি মনে করেন বিজেপি এই কেন্দ্রে বড় ফ্যাক্টর হবে। তবে হিসেবে বলছে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যাদবপুরে ৬% ভোট পেয়েছিল। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে যাদবপুর বিধানসভায় বিজেপি তাদের ভোট বাড়িয়ে ২৪% তে তুলে নিয়েছে। বামেদের ভোট কমেছে ১৫% বিজেপি-র দাবি এই ধারা বিজয় থাকলে এবার যাদবপুরে পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে। তবে বামেরা বলছেন, বিজেপি ২০১৪ তে এবং ২০১৯-এ যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সেগুলো তাঁরা কার্যকর করেনি। উল্টে দেশটাকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মানুষ ঠিক করে ফেলেছে কী করবেন। যাদবপুরের মানুষ রাজনৈতিক সচেতন। তাঁরা যা করার বুঝেই করবেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.