স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রাজনৈতিক জীবনে জনসংযোগ বাড়াতে ফেসবুকই ভরসা, অনেকদিন আগেই তা বুঝে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ-মদন মিত্ররা। তারপর থেকেই ফেসবুকই হয়ে উঠেছে তাঁদের শক্তপোক্ত মঞ্চ। মন চাইলেই মনের কথা এখন ফেসবুকেই বলছেন তাঁরা৷ এবার তাঁদের স্টাইলেই ব্যাটিং করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী৷ পদে না থেকেও কংগ্রেস কর্মীদের বার্তা দিলেন তিনি৷

বুধবার মেডিক্যাল কলেজের অগ্নিকাণ্ডের পর ফেসবুক লাইভ করেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি৷ অসহায় রোগীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলীয় কর্মীদের কাছে আবেদন করেন৷ তিনি বলেন, হাসপাতালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষের দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে৷ পরিবারের লোকজন জানেননা তাদের বাড়ির লোকেদের কোথায় নিয়ে যাওয়া৷ হয়েছে৷ তাদের কোথাও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না৷ কংগ্রেস কর্মীরা যেন তাদের সর্বশক্তি দিয়ে সকলের পাশে দাঁড়ায়৷

কয়েকদিন আগে বাগড়ি মার্কেটে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী৷ তখন তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি৷ এখন তাঁর সেই পদ নেই৷ শুধু তাই নয়,সোমেন মিত্র প্রদেশ সভাপতি হওয়ার পর থেকেই অধীর চৌধুরী কিছুটা সংবাদমাধ্যমের আড়ালেও৷ নতুন প্রদেশ সভাপতির সঙ্গে তিনি বেশ দূরত্ব রেখেই চলছেন৷

বুধবার ফেসবুক লাইভের পর অধীর চৌধুরীকে ঘিরে তাঁর দলের ভিতরেই নানান কথা আলোচনা হচ্ছে৷ যেমন- তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর কেউ কেউ খোঁচা দিয়ে বলছেন, ‘সদ্য সভাপতির পদ হারালেও এখনও অধীরবাবুর সভাপতিসুলভ আচরণ যায়নি৷ এক প্রদেশ নেতা বলেন, আসলে সোমেন মিত্রকে টোপকে এখন তো উনি সব জায়গায় যেতে পারবেন আর সংবাদমাধ্যমও সবক্ষেত্রে ওর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইবে না৷ ওর জেলার ইস্যু হলে সেটা আলাদা ব্যাপার৷’

 

বুধবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে এসেছিলেন কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা৷ দলের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন৷প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও দিল্লি থেকেই এই একই দাবি করেন৷

কিন্তু তারপরও আলাদা করে অধীর চৌধুরী ফেসবুক লাইভ করে দলীয় কর্মীদের বার্তা দেওয়াটা দলের অন্তর্কলহে ঘৃতাহুতি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ তবে অধীর চৌধুরীর এই সক্রিয়তায় বেজায় খুশি তাঁর অনুগামীরা। তাদের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘অধীরদার ফেসবুক লাইভ নতুন কিছু নয়৷ যে কোনও ইস্যুতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন। আর দলীয় কর্মীদের মানুষের পাশে থাকতে বলার জন্য কোনও চেয়ারের দরকার হয় না৷’’