স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: হাওড়ার পাকুড়িয়া ব্রিজে দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িটির তদন্তে নামল ফরেনসিক দল৷ সোমবার পাঁচ সদস্যের ফরেনসিক প্রতিনিধি দল ডোমজুড় থানায় যান৷ সেখানে থাকা দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিদেশি ফেরারি গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখেন তাঁরা৷

ওই গাড়িতে থাকা ইডিআর বক্স খোঁজার চেষ্টা চালানো হয় (ইলেকট্র্নিক ডাটা রেকর্ডার)। তদন্তকারীরা জানান, প্লেনে যে রকম ব্ল্যাকবক্স থাকে তার যা কাজ এই গাড়িতেও থাকা ইডিআর বক্সেরও তেমনই কাজ। অর্থাৎ গাড়ির যন্ত্রাংশের অবস্থার রেকর্ড, গাড়ির মধ্যে চালক ও যাত্রীদের কথোপকথন, মেকানিক্যাল আপডেট, এমনকি দুর্ঘটনার সময় গাড়ির স্পিড কত ছিল, এয়ার বেলুন ঠিকভাবে খুলে ছিল কিনা- এই সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে এই বক্স থেকে।

আরও পড়ুন: ত্রিলোচন, দুলাল, জগন্নাথের পরিবারকে নিয়ে আদালতে যাবে বিজেপি

ইতিমধ্যে তদন্তকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই ধরনের হাইস্পিড বিদেশি গাড়ি কলকাতার ব্যস্ততম জনবহুল শহরে কি ভাবে চলতে পারে? আদৌ কি এই ধরণের গাড়ি কলকাতায় চালানোর অনুমতি রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷ কারণ, মুম্বইয়ের এক নামী ক্রিকেটারের এরকম একটি বিদেশি ফেরারি গাড়ি থাকলেও মুম্বইয়ের ব্যস্ততম শহরে ওই গাড়ি চালানোর অনুমতি তাঁকে দেওয়া হয়নি। স্বভাবতই তদন্তকারীর প্রশ্ন তুলেছেন, কলকাতার মতো ব্যস্ততম শহরে এই একই মডেলের বিদেশি গাড়ি আদৌ চালানোর অনুমতি রয়েছে কি না৷

এ দিন সকালে ডোমজুড় থানায় ফরেনসিক আধিকারিকরা গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন ফরেনসিক ল্যাবের ডিরেক্টর ড: ওয়াসিম রাজা। তাঁরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে ওই বিদেশি ফেরারি গাড়িটির প্রতিটি যন্ত্রাংশ খুলে পরীক্ষা করে দেখেন। তবে ইডিআর বক্সটা পেলেও সেটা খুলতে পারেননি তদন্তকারীরা৷

আরও পড়ুন: কুড়ি বছর পর ঘরে ফিরল মেয়ে, কান্না যেন থামতেই চাইছে না মা-মেয়ের

সূত্রের খবর, এই বক্সটা খুলতে গেলে যে প্রযুক্তি দরকার, তা এরাজ্যে নেই৷ এমনকি আমাদের দেশেও নেই৷ ফলে ওই বক্স খোলার জন্য ফেরারি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তদন্তকারীরা৷ থানায় গাড়ি পরীক্ষার পর সোমবার দুপুরে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল পাকুড়িয়া ব্রিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছেও নমুনা সংগ্রহ করেন। তদন্তকারীদের অনুমান, অন্তত ২১০ ফুট দূরেই গাড়ির চাকা স্কিট করে। এরপর ঘটে ওই ভয়াবহ ঘটনা। গাড়ির চারটি এয়ার ব্যাগের মধ্যে একটি খোলেনি বলেও প্রাথমিক তদন্তে অনুমান তদন্তকারীদের৷