স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া ও হুগলি: পথ নিরাপত্তার প্রচারই সার৷ কিছুতেই যেন চালকদের সচেতন করা যাচ্ছে না৷ রবিবার ছুটির দিনে তারই সাক্ষী থাকল হাওড়া ও হুগলি৷ দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনের৷ জখম দু’জনের শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন দুপুরে ডোমজুড়ের পাকুড়িয়া ব্রিজের কাছে বেপরোয়া গতিতে থাকা একটি বিদেশি গাড়ির চালক ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উলটে যায়৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে দুর্ঘটনার জেরে সেটি কার্যত দুমড়ে মুচড়ে যায়৷

আরও পড়ুয়া: স্রেফ বিপ্লবী বুলির জন্য ভারতের গণতন্ত্রে দেশদ্রোহীরা ছাড় পেয়ে যায়

বিদেশি ফেরারি গাড়িতে (গাড়ির নম্বর- ডব্লউ বি ০২ এএল/০৮০৮) করে এক মহিলা সহ দু’জন হুগলির দিক থেকে কলকাতার দিকে আসছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির গতিবেগ অন্তত ঘণ্টায় ১৬০ কিমিরও বেশি ছিল৷ পাকুড়িয়া ব্রিজের কাছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডান দিকের ডিভাইডারে ধাক্কা মারে।

গতিবেগের তীব্রতায় গাড়িটি কার্যত দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধার কার্যে হাত লাগান৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ৷ কোনওমতে আহত দু’জনকে গাড়ি থেকে বের করে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়৷ জখম দু’জনের নাম শিবাজি রায় ও আশনা জৈন৷ পুলিশ সূত্রের খবর, পরে তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে৷ অপরজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক৷

আরও পড়ুয়া: পাকিস্তানকে সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত ভারত: জম্মুর IGP

অন্যদিকে এই ঘটনার কিছু পরেই হুগলির সিঙ্গুরের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে অপর একটি পথ দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে৷ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বাইক রেষারেষি করছিল দুই তরুণ৷ দুটি বাইকই ছিল তীব্র গতিতে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারই জেরে দুর্ঘটনাটি ঘটে৷ ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে৷ অপরজনের আঘাত গুরুতর৷

রাজ্যজুড়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হানি ঠেকাতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং চালু করেছেন ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ প্রকল্প৷ পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে চালকদের সচেতন করতে পুলিশের তরফে ধারাবাহিকভাবে প্রচারও চলছে৷

আরও পড়ুয়া: এটিএম থেকে খোয়া গেল নগদ টাকা

কিন্তু তারপরেও যে চালকদের খুব একটা হুঁশ ফেরেনি রবিবারেরর দুটি দুর্ঘটনা তারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে৷ স্থানীয়দের দাবি, পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে শুধু মাত্র সচেতনতার প্রচার করলেই হবে না একাংশ চালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা রুখতে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন৷