সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া : ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ‘মাউন্ট এলবুর্জ’ শীর্ষে পা রাখলেন প্রথম বঙ্গকন্যা। ৫,৬৪২ মিটারের উঁচু শৃঙ্গ জয় করেছেন তরুণী স্বরূপা মন্ডল। জুন মাসে এই শৃঙ্গের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন স্বরূপা। বুধবার ভোরবেলা এলবুর্জের চূড়ায় পৌঁছে যান তিনি।

গ্রামীণ হাওড়ার ডোমজুরের বেগড়ী গ্রামের মেয়ে স্বরূপা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পাহাড়ে চড়া। সেই স্বপ্ন নিয়েই স্বরূপা ভরতি হন হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং স্কুলে। সেখান থেকে অ্যাডভান্স ট্রেনিং নেন তিনি। পাশ করেন ২০১৬ সালে। তার আগে ২০১৫ সালে সেখান থেকেই বেসিক কোর্স সম্পূর্ণ করেন। ট্রেনিং নেওয়ার পর তিনি কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরে কাজ করতে শুরু করেন।

২০১৩ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন বেগরি হাইস্কুল থেকে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ঝাঁপরদা ডিউক ইনস্টিউট থেকে। জগতবন্ধু কলেজ থেকে ভূগোল ও শারীরশিক্ষা নিয়ে স্নাতক হন। তার লক্ষ্য যে পাহাড় বা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস স্বরূপার পড়াশোনার বিষয়তেই স্পষ্ট। সঙ্গে নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা মাস্টার্স কোর্স করেছেন। চলতি বছরেই উত্তরকাশীর নেহরু ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং থেকে ট্রেনিং নিতে শুরু করেন। সেখানে পর্বতারোহীদের খুঁজে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে আসার ট্রেনিং নেন। সঙ্গে চলেছে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কাজ। বলা যেতে পারে ভিত শক্ত করেই প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গে গিয়েছিলেন
স্বরূপা মন্ডল এবং এসেছে সাফল্য।

অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা মনে করছেন, এই ভিত শক্ত করে তারপরে বড় পর্বত জয়ে যাওয়ার ভাবনা ভবিষ্যতে অনেক সাফল্য এনে দিতে পারে হাওড়ার গ্রামের মেয়েকে, কারণ এখন অনেকেই এভারেস্টের মতো সুউচ্চ শৃঙ্গ জয় করতে চলে যাচ্ছেন অনেক কম ট্রেনিং করেই। ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গ জয় করতে গেলে তার আগে অন্তত তিন থেকে চারটি ছয় – সাত হাজারি শৃঙ্গতে চড়ার অভ্যাস রাখতে হয়। এসব না করেই এখন অনেকে সোজা নাম করার জন্য চলে যাচ্ছেন আট হাজার মিটারে।

এক্ষেত্রে নিজের চেয়ে বেশি ভরসা করতে হচ্ছে শেরপার উপর। বেশি শেরপা নির্ভরতার ফল মারাত্মক। যার ফল ভুগেছেন অনেক পর্বতারোহী। মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। জখমের সংখ্যাও প্রচুর ছিল। অনেকে আবার শৃঙ্গের কাছে গিয়েও এভারেস্টে ট্রাফিক জ্যাম হওয়ার জন্য ফিরে আসতে বাধ্য হয়। অন্যতম পর্বতারোহী পিয়ালি।