কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ থানার রূপাহার এলাকার ঘুঘুডাঙি মোড়ে জলাশয়ের পাশ থেকে এক সদ্যজাত মৃত কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ঠাকুর প্রসাদ রায় সদ্যজাত মৃত কন্যাসন্তান টিকে দেখতে পায়। এই খবর চাউর হতেই গ্রামের বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দার খবরে ঘটনা স্থলে এসে পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। মৃত ওই কন্যাসন্তানটিকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে আনা হয় ময়নাতদন্তের জন্য। এর পরেই পুলিশি তদন্ত। তদন্তে জানাযায় ওই সদ্যজাত কন্যাসন্তানের মা আধিকা বর্মণ রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে দিন দুয়েক আগে প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হয়।

বুধবার সকালে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে প্রসূতি বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় সরকার ওই মহিলার সিজার করেন। সিজার করার পর ওই কন্যাসন্তানের মৃত্যু হয়। ঘণ্টা তিনেক পরে ওই মৃত কন্যাসন্তানকে প্রসূতির স্বামী বিশ্বনাথ বর্মনের হাতে তুলে দেয়। সে সময় বিশ্বনাথ বাবু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান তার বাড়ি ইটাহার থানার হাঁসুয়ার স্বামীনাথ এলাকায়। সেই মোতাবেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত কন্যাসন্তানের বাবার হাতে তুলে দেন। নিয়ে জাওয়ার সময় তিনি বলে গেছিলেন তার মৃত সদ্যজাত সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন করবেন তার গ্রামেই। কিন্তু তিনি তা না করে রূপাহার এলাকার ৩৪ নং জাতীয় সড়ক লাগোয়া এক জলাশয়ের পাশে ফেলে দিয়ে চলে যান। মৃতের বাবার এহেনো কাণ্ডে রীতিমতো হতবাক রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। যদিও এই প্রসঙ্গে হাসপাতাল সুপার গৌতম কুমার মণ্ডল কোন মন্তব্য করতে চাননি। রায়গঞ্জ থানা সুত্রে খবর, গোটা বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে। শীঘ্রই গোটা ব্যাপারটি পরিষ্কার ভাবে জানা যাবে। তবে একের পর এক সদ্যজাত শিশু উদ্ধারের ঘটনা চিন্তার ভাঁজ ফেলছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কপালে ।