স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: কলকাতার পর এবার জেলা। করোনা মোকাবিলায় এবার মালদহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি রোগীর আত্মীয়দের মানসিক অবসাদ কাটাতে গান ধরলেন খোদ দমকলের অফিসার এবং কর্মীরা।

এমনকি, মালদহ শহরের ফোয়ারা মোড় সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গান শুনিয়ে মানুষের অবসাদ কাটানোর চেষ্টা চালান দমকলের অফিসার কর্মীরা। যা দেখতে অনেকেই ভিড় করেছিলেন ঠিকই। কিন্তু সম দূরত্ব বজায় রেখেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষকে করোনা সচেতনতায় গান শোনালেম দমকলের অফিসার কর্মীরা।

বুধবার মালদহ মেডিকেল কলেজের মূল গেটের সামনেই হাতে মাইক নিয়ে শব্দ বিধি নিয়ন্ত্রণে রেখেই ৬ থেকে ৭ জন দমকলের অফিসার কর্মীরা একসঙ্গে সুর ধরে এক-একটি বাংলা গানের অনুকরণে করোনা মোকাবিলায় গানের সুর তুলে ধরেন।

গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয,দেশের এমন পরিস্থিতিতে দমকল, পুলিশ-প্রশাসন কিভাবে কাজ করে চলেছেন মানুষের জন্য । এক্ষেত্রে মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন দমকলের অফিসাররা। পাশাপাশি সরকার এবং প্রশাসন যেভাবে চাইছেন সেই ভাবেই যেন এই পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি থাকেন সাধারণ মানুষ। সেই অনুরোধও জানানো হয় এদিন।

এদিন সমদূরত্ব বজায় রেখেই দমকলের অফিসার কর্মীরা মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মূল গেটের সামনে সারিবদ্ধ ভাবে হ্যান্ড মাইক নিয়ে বাংলা সিনেমার পুরনো দিনের একটি গানকে অনুকরণ করে শুরু করেন করোনা মোকাবিলার নতুন ছন্দের গান। হঠাৎ করে দমকল কর্মীদের এই গান শুনতে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকার আত্মীয় থেকে সাধারণ মানুষেরা । তারা ভিড় জমানোর চেষ্টা করলেও গানের মাধ্যমে দূরত্ব বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। মালদহে এই প্রথম পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দমকলের অফিসার , কর্মীরা হাতে মাইক নিয়ে গান বাঁধলেন।

এদিন দমকলের এক কর্তা বলেন , “সংশ্লিষ্ট দফতরের অফিসার কর্মীরা রাতদিন এককরে করোনা মোকাবিলায় কাজ করে চলেছেন। এখন দমকল কর্মীদের সবথেকে চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে এসেছে । প্রতিটি এলাকাতে গিয়ে জীবাণুমুক্ত ওষুধ স্প্রে করতে হচ্ছে। যেখানে যখন ডাক পড়ছে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে সেইসব এলাকায় গিয়ে কাজ করছেন অফিসার , কর্মীরা । খাওয়া-দাওয়া ভুলে এখন একভাবে লকডাউন পরিস্থিতিতে কাজ করে চলেছেন দমকল কর্মীরা।”

তিনি আরও বলেম, ” এই অবস্থায় তারা দেখছেন মেডিকেল কলেজে বহু রোগীর আত্মীয়রা বাড়ি যেতে পারছেন না। কেউ গেস্ট হাউসে অথবা কেউ আশেপাশের প্রতীক্ষালয় গুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সেই সব মানুষদের মানসিক অবসাদ কাটাতে এদিন গান বাঁধা হয়। এই ধরনের কর্মসূচি আগামী দিনেও চলবে । যাতে মানুষ লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও খানিকটা বিনোদন উপভোগ করতে পারেন।”

জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, “দমকল কর্মীরা ভালো কাজ করছেন । কাজের ফাঁকে তারা মানুষের অবসাদ কাটাতে গান বেঁধেছেন , এটা ভালো কথা । তাঁরা যাতে আরও উদ্যমী হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন এই আশায় রাখি।”

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV