স্টাফ রিপোর্টার, বনগাঁ: কলকাতা থেকে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে বাংলাদেশী পরিবার। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের৷ আহত আরও ছ’জন৷ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁর যশোহর রোডের সিকদারপল্লী এলাকায়৷ ঘটনার জেরে এদিন সকালে যশোহর রোডে তীব্র যানজট তৈরি হয়৷ পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ঝিনাইদহ এলাকার বাসিন্দা শ্যামল বিশ্বাস তাঁর স্ত্রী ও আড়াই বছরের শিশুকে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে৷ শ্যামলবাবুর কাছে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট৷ এদিন সকালে কলকাতা থেকে সড়ক পথে তিনি স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন৷ যশোহর রোডের সিকদারপল্লী এলাকায় একটি মাছের গাড়ি সঙ্গে তাঁদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়৷ দুর্ঘটনার জেরে মাছের গাড়িতে থাকা এক জনের মৃত্যু হয়েছে৷

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু সচেতনতায় প্রচার শুরু বাঁকুড়া পুলিশের

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুটি গাড়ি দ্রুত গতিতে ছিল৷ ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতর নাম রঞ্জিত এবং বাড়ি বনগাঁ থানার সুটিয়া এলাকায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ি দুটি থেকে আহতদের উদ্ধার করেন৷ স্থানীয়দের তৎপরতাতেই আহত ছ’জনকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ তাঁদের বনগাঁ থেকে কলকাতায় স্থানান্তকর করা হয়েছে৷ দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ যশোহর রোডে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে বনগাঁ থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনার পর পুলিশের ভূমিক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাঁদের অভিযোগ, যশোহর রোডে পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা নেই৷ নজরদারির পরিবর্তে পুলিশ লরি চালকদের কাছ থেকে উৎকচ সংগ্রহেই বেশি ব্যস্ত থাকেন৷ তারই জেরে হামেশাই এই পথে দুঘর্টনা ঘটছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন৷
যদিও বাসিন্দাদের অভিযোগ উড়িয়ে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘যশোহর রোড এমনিতেই সবসময় ব্যস্ত থাকে৷ ওই সড়কে পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে৷ আইন ভাঙলে উপযুক্ত পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়৷ কিন্তু গাড়ি চালকরা যদি একটি সতর্ক না হন, তাহলে আমাদেরই বা কি করার আছে৷’’