নয়াদিল্লি: ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিধ্বস্ত কলকাতা। এই অবস্থায় ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রাথমিকভাবে এই ক্ষতি সামলাতে ভারতকে পাঁচ লক্ষ ইউরো দেওয়ার কথা ঘোষণা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এটা ঘোষণা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিপর্যয় মোকাবিলা কমিশনার জানেজ নেরাসিস।

এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, বেশ কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই সাইক্লোন আমফানে যা পূর্ব ভারতের কলকাতার দক্ষিণ-পশ্চিমে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে তান্ডব চালায় এবং পরে তা বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব দিকে ঢুকে যায়। এর ফলে বহু স্থান‌ বন্যার কবলে পড়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সেইসব মানুষদের জন্য যারা এই ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত বিশেষত তাদের জন্য যারা এই ঘূর্ণিঝড়ে তাদের ভালোবাসার মানুষদের হারিয়েছেন। তিনি ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় দেশের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এ রকম প্রাণহানি ঘটনা ঘটার জন্য। ঝড়ো হাওয়ার কারণে ‌ তছনছ হয়ে গিয়েছে‌ ও ভূমিক্ষয় এবং জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে বহু স্থান, বাড়ি এবং পরিকাঠামো নষ্ট হওয়ায় চরমভাবে ব্যাহত জনজীবন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকদের বক্তব্য, তারা অনুভব করতে পারেন বর্তমানে কি চরম অবস্থার মধ্যে‌ দিন কাটাচ্ছেন তাদের ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুরা। এমন ঝড় তখন উঠলো যখন করোনা ভাইরাসকে আটকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটা অত্যাবশ্যকীয়। এর ফলে ইউরোপীয়ো ইউনিয়ন সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে থাকার বার্তা দিল। পাশাপাশি মানবতার কারণে তারা আর্থিক সাহায্য দিতে এগিয়ে এলো।

তাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশের জন্য অবিলম্বে ১১ লক্ষ ইউরো দেওয়ার ব্যাপারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সিনিয়র অফিসারের বক্তব্য,এই সংকটকালে তারা দেখে গর্বিত প্রথমেই ঝাঁপিয়ে পড়া হয়েছে মানুষের জীবন রক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি আরও কিছুটা অনুধাবন করতে‌‌ ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস এই বিষয়ে সহায়তা করছে স্যাটেলাইট ম্যাপের সাহায্যে ক্ষতির জায়গা অনুধাবন করতে।