হাওড়া: শহর জুড়ে জাঁকিয়ে শীত পড়তেই এবার প্রচুর পরিযায়ী পাখি ভিড় জমিয়েছে সাঁতরাগাছির ঝিলে। যা দেখে রীতিমত খুশি এখানে পাখির খোঁজে বেড়াতে আসা পক্ষীপ্রেমীরা। চলতি শীতের মরশুমে সাঁতরাগাছির ঝিলে ১২ টি প্রজাতির প্রায় ৪,৫৪০টি পরিযায়ী পাখির দেখা মিলেছে। যা নিয়ে রীতিমত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বনদফতরের কর্তা থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমীরা। ফলে গত বছরের তুলনায় পরিযায়ী পাখির সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে এই বছর।

বন দফতরের সহায়তায় ‘প্রকৃতি সংসদ’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে ২ দিনের একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। যেখানে,শনিবার প্রথম দিন এই ঝিলে পাখি গণনা করা হয়। তাঁদের গনণায় এদিন ১২টি প্রজাতির মোট ৪,৫৪০টি পরিযায়ী পাখি পাওয়া গিয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ছিল মাত্র ২,৮৮৯টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৪,৫৪০টি।

এর মধ্যে দেশীয় পরিযায়ী পাখি ছাড়াও, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং ইউরোপের বেশ কিছু পরিযায়ী পাখিও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। জানা গিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ জেরে এবার এই ঝিলের ছোট ছোট কচুরিপানার দ্বীপগুলি অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অতিথি পাখীদের বিশ্রাম নেওয়ার ওই জায়গাগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, এখানে আর পরিযায়ী পাখিরা আসবে কিনা তা নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরাও উৎকন্ঠায় ছিলেন।

কিন্তু, ‘বায়ো ডাইভারসিটি বোর্ড‘, হাওড়া পুরনিগম, সিটি পুলিশ, রেল কর্তৃপক্ষ ও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তৎপরতায় কচুরিপানার ছোট ছোট আইল্যান্ডগুলিকে পুনরায় দ্রুত তৈরি করে দেওয়া হয়। আর এরফলেই এবছর সাঁতরাগাছি পাখিরালয়ে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন পাখি গণনা প্রসঙ্গে প্রকৃতি সংসদের সহ সম্পাদক অপূর্ব চক্রবর্তী জানান, ”সাঁতরাগাছি ঝিলে গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি পরিযায়ী পাখি এসেছে। এর প্রধান কারণ, দূষণ আগের থেকে অনেকটা কমেছে। এছাড়া সাঁতরাগাছি ঝিল ঠিকঠাক সংস্কার করা হয়েছে। পরিযায়ী পাখিদের বসার জন্য কচুরিপানার ছোট আইল্যান্ডগুলি ঠিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। আগে ঝিল পুরো কচুরিপানায় ভরতি থাকায় পরিযায়ী পাখিদের বসতে সমস্যা হচ্ছিল।” এইরকম উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে আগামী বছর সাঁতরাগাছি পাখিরালয়ে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন।

জানা গিয়েছে, এই বছর দেশীয় পরিযায়ী পাখি সহ সাইবেরিয়া থেকেও একাধিক পরিযায়ী পাখি এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাডওয়াল বা পিং হাঁস, ফেরিজিনিয়াস বা ভূতি হাঁস ও গারগেনি বা গিরিয়া হাঁস, নর্দান পিনটেল। এছাড়াও রয়েছে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা একাধিক পরিযায়ী পাখি। এর মধ্যে লেসার হুইসিলিং ডাক বা ছোট সরাল, কমন মুরহেন বা জলমুরগী, ইন্ডিয়ান পন্ড হ্যারন বা কোঁচ বক প্রভৃতি। এদিকে, পরিযায়ী পাখি দেখতে সকাল সকাল সাঁতরাগাছির ঝিলে ভিড় জমাচ্ছেন পক্ষী বিশেষজ্ঞ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।