অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় দুটি আসন পেয়েছিল বিজেপি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ফল আশ্চর্য রকম ভাবে ভাল। এর কারণ হয়তো-বা ময়নাতদন্ত করে খুঁজে বের করতে হবে! জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বাংলা এখন পদ্মফুলের দখলে।

নেত্রীকে বরাবর সমর্থন জানিয়েছেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। শুধু তিনি নন, জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার, অরিন্দম শীল, কবীর সুমন, আবুল বাশার, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, শাঁওলী মিত্র-সহ একাধিক বিশিষ্টজন প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছেন। প্রশ্ন হল লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভাল ফলের পরে তাঁরা এখন কোথায়? তাঁদের অবস্থান কী হতে চলেছে!

চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন kolkata24x7.com-কে বলেন, “আমরা গণতন্ত্রকে মেনেছি কিন্তু আমরা গণতন্ত্রী হতে পেরেছি বলে মনে করি না। গত পাঁচ বছর ধরে যে শক্তিকে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তাঁরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়নি। বরং অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক কিছু জিনিসকে গরুত্ব দিয়েছে। কয়েকশ বছর আগেকার ধ্যানধারণাকে নানা ভাবে মানুষের মধ্যে ছড়াবার চেষ্টা করেছে।”

এর পরিণাম কোন দিকে গড়াতে পারে? সে ব্যাপারে শুভাপ্রসন্ন মনে করেন, “সভ্য মানুষের অন্যতম প্রধান প্রকাশ সংস্কৃতিতে, সেই সংস্কৃতির যে গভীরতা তার দিকে বিজেপি কখনও যায় না। সংস্কৃতি বা যে কোনও সৃষ্টিশীলতার মধ্যে একটা স্বাধীন বাতাবরণ দরকার। বিশেষ করে যে সরকার প্রশাসকের দায়িত্ব নেবেন, তাঁরা যদি তার উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষক না হন তাহলে এই সংস্কৃতির উপরেও বিরাট আঘাত আসবে।”

শুধু তাই নয়, তিনি মনে করেন বিজেপির উত্থানের ফলে বাংলা তথা সারা ভারতবর্ষ জুড়ে মুক্তচিতার উপর একটা বড় আঘাত আসবে। শুভাপ্রসন্নর মতে, “বিজেপি একেবারেই মুক্তচিন্তার পক্ষে কথা বলে না। এ যেন অন্ধতার সঙ্গে অন্ধতার লড়াই। শুধুমাত্র ধর্মের মেরুকরণকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলায় ভোট পাওয়ার চেষ্টা চলেছে। যেখানে প্রচুর অর্থব্যয় করে সমস্ত কিছু কিনে নেওয়া হয়েছে। সেকারণে বাংলায় বিজেপির উত্থান অশনি সংকেত।”

কিছুদিন আগেই কলকাতা প্রেসক্লাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জমায়েত হয়েছিলেন একঝাঁক বুদ্ধিজীবী। তাঁরা সভা করে সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করেছিলেন। সভার সঞ্চালক ছিলেন শুভাপ্রসন্ন। সেদিনের সভায় সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের আবেদন কার্যকর হয়নি। সেদিনই সন্ধ্যায় বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে আঘাত করেছিল বিজেপি। এ প্রসঙ্গে শুভাপ্রসন্ন বলেন, “আমাদের কাজ আমরা করেছি। আমাদের মনের কথা সাধারণ মানুষকে বলেছি। আমাদের মধ্যে যে আশঙ্কা ছিল তা বলেছি। তখনও বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেনি। সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে দেখলাম একটা বিরাট র‍্যালি চলছে। সেই মিছিল আমাদের সংস্কৃতিকে ভয়ঙ্কর ভাবে আঘাত করল। বিজেপি যদি দাপিয়ে বেড়ায়, তাহলে সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।”

তবে এখানেই শেষ নয়। চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন এখনও আশাবাদী। তিনি মনে করেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে তৃণমূল কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াবে। তার জন্য যে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে সেকথা বলতে ভোলেননি তিনি। স্পষ্টতই বলেন, “আমাদের আরও ভাল কাজ করে যেতে হবে।”