তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘দলমার দামাল’দের হানা অব্যাহত বাঁকুড়ায়। ছ’টি শাবক সহ তিরিশটি হাতির একটি দল ব্যাপক তাণ্ডব চালালো বিষ্ণুপুরের নতুনগ্রাম এলাকায়। এই ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

বনদফতর সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার ঐ হাতির দলটি পশ্চিম মেদিনীপুরের ধাধিকা বিটের কুচিডাঙ্গা গ্রাম পেরিয়ে পাঞ্চেত ডিভিশনের বাঁকাদহ- বিষ্ণুপুর হয়ে শুক্রবার জয়পুর রেঞ্জ এলাকায় ঢোকে। ঐ রাস্তায় যাওয়ার পথে বিষ্ণুপুরের বাসুদেবপুর বিটের নতুনগ্রামে প্রায় ৪৫ বিঘা জমির শসা, মটরশুটি, বেগুন, টম্যাটো সহ অন্যান্য মরশুমী সবজি চাষ নষ্ট করে দেয়।

পাঞ্চেত বনবিভাগ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট হাতির দলটি জয়পুর রেঞ্জের মাচানতলা বিটের কোসিরবাগানে অবস্থান করছে। সেই কারণে ঐ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন বিভাগীয় বনাধিকরা।

এদিন নতুনগ্রামে গিয়ে দেখা গেল, বিঘার পর বিঘা জমির সবজি নষ্ট করে ফেলেছে হাতির দলটি। ফসল ঘরে তোলার প্রাক্ মুহূর্তে এভাবে হাতির আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতিতে মাথায় হাত চাষীদের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দুলু মুর্ম্মু, সুকুরাম মুর্ম্মরা বলেন, ১১ জন চাষীর প্রায় ৪৫ বিঘা জমির সবজি নষ্ট করেছে হাতির দলটি। এই বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ধান চাষ তেমন হয়নি। সবজি চাষ করেই ছেলে মেয়ের পড়াশুনা থেকে শুরু করে সারা বছরের সংসার খরচ চালাব ভেবেছিলাম। সে আশায় জল ঢাললো বুনো হাতির দলের আক্রমণ। বনদফতর কবে ক্ষতিপূরণ দেবে তার ঠিক নেই জানিয়ে তারা পরিবার পিছু এক ক্যুইন্ট্যাল চাল দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, বনদফতর হাতির এই পথে দিয়ে যাওয়া নিয়ে আগাম কোনও রকম সতর্কবার্তা দেয়নি। সেই রকম সতর্কবার্তা দিলে হয়ত এতটা ক্ষতি হতনা।

এই বিষয়ে বাসুদেবপুর বিটের বনাধিকারিক কান্তি রঞ্জন মাহাতোকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, প্রত্যেকেই সরকারী নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে হাতির দলটির অবস্থান ও যাতায়াত নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের অভিযোগ তিনি মানতে রাজী হননি। ঐ এলাকায় বনদফতরের তরফে মাইকিং করে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।