স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা ভাগাড়ের মাংসে পরিনত হয়েছে৷ কলেজে কলেজে ছাত্র ভরতি নিয়ে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ একইসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকেও সমর্থন করেছেন তিনি৷

রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্র-ছাত্রী ভরতি নিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ অব্যাহত৷ এই অভিযোগের তির অধিকাংশই শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের দিকে৷ পরিস্থিতি সামলাতে ময়দানে নামতে হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে৷ কিন্তু তারপরও ছাত্রনেতাদের তোলাবাজিতে পুরোপুরি লাগাম টানা যায়নি৷ এর প্রতিবাদেই বুধবার দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে অবস্থান বিক্ষোভ করল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদ৷ কলেজগুলিতে মেধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বচ্ছভাবে ভরতি প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছে তারা৷

এই কর্মসূচীতে যোগ দিয়েই রাজ্য সরকারকে একহাত নেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ তিনি বলেন, চারপাশে যা চলছে তাতে স্পষ্ট বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা ভাগাড়ের মাংসে পরিনত হয়েছে৷ আমরা যাদবপুরের আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছি৷ ওরা নায্য দাবিতে আন্দোলন করছে৷

উল্লেখ্য, যাদবপুরের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (ইসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাইরের অধ্যাপকদের দিয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণ করানো হবে৷ এ ছাড়া, প্রবেশিকা পরীক্ষা এমসিকিউ ফরম্যাটে করার সিদ্ধান্তও নেয় ইসি৷ আর এই দু’টি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের একাংশ৷

এদিন কলকাতা ছাত্র পরিষদের সভাপতি অর্ঘ্য গণ বলেন, বিরোধীশূন্য কলেজ করার যে মনোভাব সেটা শাসকদলের কাছে বুমেরাং হয়ে গিয়েছে৷ তাই জন্যই একটা গণতান্ত্রিক দেশে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কলেজের গেটে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে এসে দাঁড়াতে হয়৷ যদি কলেজগুলিতে সুষ্ঠুভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় এবং বিরোধীপক্ষ থাকে তাহলেই এই সমস্যা মিটবে৷