স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: বন্যা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে রাজ্যের কমবেশি নদী তীরবর্তী জেলাগুলিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষজন। শুধু তাই নদীর ভাঙনে ক্ষতি হচ্ছে ফসলের খেতও। ফলে বর্ষার পরে প্রতি বছরই নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এই সব জেলার মানুষেরা। জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টি কমানোর উপায় মানুষের হাতে নেই। আর যেটি মানুষের হাতে রয়েছে সেটি হল বন্যা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা। জানা গিয়েছে এবার থেকে অতিরিক্ত বন্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অভিনব এক উদ্যোগ নিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতিবার অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং দামোদর নদের বন্যার কারনে স্থানীয় বাসিন্দা, চাষিদের অধিকাংশ জমি চলে যায় নদী গর্ভে। ফলে ফি বছর জমি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় এইসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের। জানা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টি মানুষের নিয়ন্ত্রনের বাইরে হলেও মানুষের একটু সৎ প্রচেষ্টা অনেকখানি বন্যা রোধ করতে সক্ষম। আর তাইতো এই জেলায় বন্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহনের আর্জি জানিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁকুড়া জেলার নিত্যানন্দপুর এলাকার বাসিন্দারা। বন্যা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নিত্যানন্দপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নিত্যানন্দ সরকার এবং বিষ্ণুপ্রিয়া হালদার সহ গ্রামবাসীদের আরও অনেকে জানিয়েছেন, ফি বছর বন্যায় নদী গর্ভে বহু জমি চলে গেছে। তাঁরা বন্যা রোধে প্রশাসনকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে এমনটাই জানা গিয়েছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নদী ভাঙনের বিষয়টি জানতে পেরে দামোদরের ভাঙ্গন প্রতিরোধ করতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন।

সূত্রের খবর, দামোদরের ভাঙ্গন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে ভেটিভার ঘাস লাগানোর কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। এই মুহূর্তে বাঁকুড়া জেলার রাধামোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিত্যানন্দপুর গ্রাম সংলগ্ন দামোদর নদীর তীর বরাবর ভেটিভার ঘাস লাগানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে ফি বছর বৃষ্টি এবং বন্যার কারনে বাঁকুড়ার সোনামুখীর রাধামোহনপুর, ডিহিপাড়া, নবাসন গ্রাম পঞ্চায়েতের নদীতীরবর্ত্তী এলাকার কয়েকশো বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। শুধু তাই নয় অনেকেরই সামান্য সম্বল এক টুকরো চাষের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, পরবর্তী দিনগুলিতে বৃষ্টি অথবা বন্যার কারনে যাতে আর কারও জমি নদীর গর্ভে না চলে যায় তা ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ‘ভেটিভার’ নামের যে ঘাস নদীতীরবর্তী এলাকায় লাগানো হচ্ছে তাঁর বৈজ্ঞানিক নাম ক্রীসোপাজ জিজানিয়াইডেস। মাটির ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবহৃত এই ঘাস বিন্না বা খসখস নামেও পরিচিত। ভেটিভার ঘাসের গুচ্ছমূল মাটির তলায় প্রায় ৩ মিটারেরও বেশি পৌঁছে মাটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। জানা গিয়েছে, আমাদের দেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, চীন সহ পৃথিবীর নানা দেশে নদীর পাড়, পাহাড়ি ঢাল, সমুদ্র তীরবর্ত্তী এলাকার ভাঙ্গন রোধে এই ঘাসের চাষ করা হয়। সুগন্ধি এই ঘাস প্রসাধন সামগ্রী তৈরীর কাঁচামাল হিসেবেও বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে ভাঙন রোধে ‘ভেটিভার’ ঘাস লাগানো নিয়ে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা তাপস সরকার দাবী করে এদিন জানিয়েছেন, পাথর দিয়ে তৈরী করা নদী বাঁধ দিয়েও ভাঙ্গন রোধ করা যাচ্ছেনা। সেখানে ভেটিভার ঘাস কিভাবে ভাঙ্গন রোধ করবে বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। অবশ্য এই বিষয়ে তৃণমূল পরিচালিত সোনামুখী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রণব রায় রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম পরিচালিত সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওনারা নদী ভাঙ্গন রোধে কোন কাজ করেননি’।

তিনি আরও জানিয়েছেন,২০১১ সালে তাদের দল ক্ষমতায় আসার পর এই ব্যাপারে প্রথম উদ্যোগ নিয়েছে। সেই মতো এই এলাকাতেও কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।