তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত ‘একশো দিনের কাজ প্রকল্পে’ সত্তর শতাংশ কাজ হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানান, জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস। এদিন তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জেলায় ওই প্রকল্পের কাজে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জেলাশাসক বলেন, শৌচাগার নির্মাণ নিয়ে জঙ্গলমহলে যে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে সেই বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, শৌচাগার নির্মাণ ক্ষেত্রে ঠিকাদারী সংস্থার প্রাপ্য টাকা পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার কাছ থেকে শংসাপত্র নিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই শৌচাগার নির্মাণে কোনও ধরণের কাজের গাফিলতি প্রশাসন বরদাস্ত করবে না বলেও তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দেন।

কৃষি নির্ভর বাঁকুড়া জেলায় এই বছর বৃষ্টিপাতের অভাবে একশো শতাংশ জমিতে চাষ হয়নি। কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত মানুষ আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। এই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে গেলে একশো দিনের কাজ প্রকল্পে নিয়মিত কাজ পাওয়া জরুরী। জেলার সর্বত্র সেই ভাবে এই কাজ মিলছে না বলেই অনেকের অভিযোগ। ঠিক সেই মুহূর্তে জেলাশাসকের তরফে বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক করে এই বিষয়ে আরও গতি আনার নির্দেশ যথেষ্ট প্রশংসনীয় বলেই অনেকে মনে করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক নির্দেশে রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে বাঁকুড়া জেলাতেও ব্লক স্তরীয় প্রশাসনিক বৈঠক শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলাশাসকের উপস্থিতিতে রানীবাঁধ ও ইন্দাসে প্রশাসনিক বেঠক করেছে। এদিন জেলার সমস্ত ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি, পদাধিকারী ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এদিনের বৈঠকে জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস ছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, ‘মেন্টর’ অরুপ চক্রবর্তী সহ জেলা প্রশাসনের বিশিষ্ট আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।