স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মোদী ও দিদি এই দুই পাল্টিবাজের সরকারের পাল্টি খাওয়ার ঠেলায় নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। এভাবেই সিএএ-এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী৷

শনিবার বর্ধমানের কার্জন গেটের সামনে পূর্ব বর্ধমান জেলা কংগ্রেস প্রচার কমিটির ডাকে, আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী মনে করান যে, আজকের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে যে হৈ চৈ হচ্ছে সেটা ১৯৯৯ সালের। তার প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিল ১৩ তম লোকসভার অধিবেশন। সেদিনই তিনি তত্কালীন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবাণীকে প্রশ্ন করেছিলেন, ভারতবর্ষে কতসংখ্যক পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁরা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জানাবেন। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছর পরেও বিজেপি সরকার সেই শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জানাতে পারেনি দেশে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা।

এদিন কার্জন গেটের সামনে এনআরসি এবং সিএএ বিরোধী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় হাজির ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সদস্য অভিজিত ভট্টাচার্য, জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব সমাদ্দার, জেলা কংগ্রেস নেতা উজ্জ্বল সোম, নাজির হোসেন প্রমুখরাও।

অধীর চৌধুরী এদিন বলেন, ”মোদী ও দিদি দুইই পাল্টিবাজের সরকার। আর এই দুই পাল্টিবাজের সরকারের পাল্টি খাওয়ার ঠেলায় নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের।” এভাবেই তিনি এদিন কেন্দ্রের বিজেপি এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, এনআরসিকে সমর্থন করা মানে মহম্মদ আলি জিন্নাহ-র ভারত ভাগকে সমর্থন করা। মোদী হিন্দু আর মুসলিমকে আলাদা করে দিতে চাইছে। বলছে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেবে। অথচ সেই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছেন যিনি তাঁর নাম আব্দুল কালাম।

তিনি জানান, এই নাগরিকত্ব আইনের বিরোধীতা করা না হলে আগামী দিনে তপশীলি জাতি, উপজাতি ওবিসিদের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হবে। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে অধীর বলেন, রাজ্যে ৪টে শিল্প নিয়ে বৈঠক হয়েছে। প্রতিবারই শিল্পপতিদের নিয়ে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন কত টাকা বিনিয়োগ হতে চলেছে। কিন্তু এই ৪ বছরে এক টাকাও বিনিয়োগ হয়নি। বাংলায় শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিবর্তে দিদির ভাইদের জন্য কাটমানি শিল্প চালু হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এদিন উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এই দুই সরকারের ধোঁকায় বিশ্বাস করবেন না। এখন কংগ্রেস দুর্বল হলেও ভারতবর্ষের ক্ষমতার দাবীদার কংগ্রেসই। কারণ, কংগ্রেসই পারে দেশকে রক্ষা করতে। জম্মু কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করার ফলে ভারতবর্ষের মানুষ কাশ্মীর যাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইণ্টারনেট। গোটা দেশ আর্থিক মন্দায় আক্রান্ত। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে এখন একটাই আলোচনা এই এনআরসি। যেন রুটি,রুজি, স্বাস্থ্য সহ সাধারণ মানুষের আর কোনও সমস্যা নেই।

এছাড়াও, দেশে বেকার বাড়ছে। আর্থিক ব্যবস্থা জেরবার। ভারতবর্ষে প্রতিদিন ৩১জন কৃষক আত্মহত্যা করছেন। গত ১ বছরে কাজ না পেয়ে হতাশার জেরে ১১ হাজার ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেন, দেশ ভাগের সময় যে সমস্ত মুসলিম এদেশে রয়ে গেলেন ভারতবর্ষকে ভালবেসে। এখন তাদের কাছেও নতুন করে প্রমাণ দিতে হচ্ছে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসে নাগরিক হয়েছেন।

অধীর চৌধুরী বলেন, গোটা দেশের মানুষকে হিন্দু আর মুসলমানে বিভাজন করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু মানুষই নয়, এখন জন্তু জানোয়ারদেরও ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। দেশের স্বাধীনতার ৭০ বছর পর জানতে চাওয়া হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ কি। তিনি জানান, এখনই এব্যাপারে প্রতিবাদ না করলে আগামী দিনে আরও ভয়ংকর বিপদ ঘনিয়ে আসতে চলেছে। তিনি জানিয়েছেন, দেশভাগের সময় ২০ লাখ মানুষ খুন হয়েছিলেন। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নিরাশ্রয় হয়েছিলেন। ফের আবার সেই ছায়াই দেখা যাচ্ছে।