কলকাতা: ২১শের মঞ্চ থেকে মোদীকে হঠাতে ১৯শের ব্রিগেডের ডাক৷ পুজো গড়াতেই জোর প্রস্তুতি৷ ব্লকে ব্লকে মিটিং৷ রাজ্যজুড়ে দলের যুব সভাপতির সভা৷ রাজ্যের শাসক দলের দাবি ছিল মানুষের ভিড়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে তিলোত্তমা৷ ভিড় ছাডা়বে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ৷ অবশেষে শনিবার হল সেই সভা৷ মঞ্চে হাজির গেরুয়া বিরোধী শিবিরের প্রথম সারির নেতারা৷ জোড়াফুলের দাবি ব্রিগেডে এসেছিল প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ৷ রাজ্যের শাসক দলের দাবি উড়িয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় দিলেন অঙ্কের হিসেব৷ জানিয়ে দিলেন ২লক্ষের বেশি লোক হয়নি ব্রিগেডে৷

আরও পড়ুন: ২৩ নয়, ১৩টি দল ছিল ব্রিগেডের সভায়: মুকুল রায়

রবিবার দলীয় দফতরে মুকুল রায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পরিমাপ তুলে ধরেন৷ তার ভিত্তিতেই জানান এই মাঠে ২ লাখের বেশি লোক ধরতে পারে না৷ তাই পঁচিশ লক্ষ ভিড়ের যে দাবি তৃণমূলের তরফে করা হচ্ছে তা আসলে ভুয়ো৷ তিনি বলেন, ‘‘ব্রিগেডের মাঠের আয়তন ৯ লক্ষ বর্গফুটের কিছু কম৷ এর মধ্যে তৈরি করা হয় পাঁচটি মঞ্চ৷ ছিল বাঁশের ব্যারিকেড৷ এই আয়তনে মোট লোক ধরে ২ লক্ষের মতো৷’’

লোক সমাগম থেকে সংখ্যার বিচারে সেখানে দলের উপস্থিতি৷ তৃণমূল নেত্রীর দাবি নিয়ে রবিবার সরব হন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ এদিন তিনি জানান রাজ্যের শাসক দল প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে সভা ভরানোর চেষ্টা করেছিল৷ কিন্তু তা হয়নি৷ একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি তুলে ধরেন তিনি৷ যেখানে ব্রিগেডে মাঠের অর্ধেকটা ফাঁকা৷ মুকুলবাবুর দাবি, মাঠ আসলে ফাঁকাই ছিল৷ কিন্তু মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে৷ তাই এই ব্রিগেডকে ঐতিহাসিক বলা যাবে না৷

কলকাতা পুলিশের দাবি, ব্রিগেডে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এসেছিলেন৷ এর মধ্যে ২ লক্ষ মাঠে থাকলেও বাকিরা ছড়িয়ে ছিলেন সংলগ্ন অঞ্চলে৷ বহু এলিডি স্ক্রিন থাকায় তারা সেদিকে নজর রেখেছিলেন৷

আরও পড়ুন: তৃপ্ত নয়, ব্রিগেডে ওঁদের পদধুলিতে দূষিত হল তিলোত্তমা

ব্রিগেড ভরাতে তৃণমূলের খরচ প্রসঙ্গেও এদিন প্রশ্ন তোলেন মুকুল রায়৷ কোথা থেকে এক টাকা এল তা জানতে চাওয়া হয় গেরুয়া দলের তরফে৷ সেই সময় মুকুলবাবুর পাশে বসে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, দলের নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পদ্ম শিবিরের দাবি, প্রচারে গর্জন থাকলেও বর্ষণ ছিল না৷ এর কারণ হিসাবে তিনি তুলে ধরেন তৃণমূল বাংলায় বিরোধীদের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করছে৷ ফলে মানুষ বুঝতে পেরেছে গণতন্ত্রের নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোদী বিরোধীতা কতটা মেকি৷