কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় আমফানের তান্ডবে লন্ডভন্ড বাংলা এখনও ছন্দে ফিরে আসেনি৷ এরই মধ্যে শুক্রবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বাংলায় মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের৷

দু’দিন আগেই স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন,আমফানে মৃতের সংখ্যা ৮৬। সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯৮ জনে৷

আগেই আমফানে মৃতদের পরিবারের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বহু পরিবারের হাতে প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণের চেক পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। বাকিদের কাছেও ক্ষতিপূরণের অর্থ দু’একদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসন পাঠিয়ে দেবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরই সরকার জানিয়েছিল বাংলায় মোট ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার মানুষ৷ ঝড়ের তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত সাড়ে ১০ লক্ষ বাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে খবর৷

সূত্রে খবর, ,বাংলায় যে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল ,এদের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের৷ এছাড়া গাছ পড়ে ২৭ জন, দেওয়াল চাপা পড়ে ২১ জন ও ছাদ ভেঙে পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে৷

পাশাপাশি, জমা জলে ডুবে ৩ জন, সাপের কামড়ে একজন, ঘর ভেঙে ২ জন এবং আতঙ্কে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে পড়ে মারা গিয়েছেন আরও ২ জন৷ শুধু কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের৷

রাজ্যের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য মোট ৩৮৪টি ব্লক ও পুরসভা এলাকার ক্ষতি হয়েছে।ঝড়ের তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত সাড়ে ১০ লক্ষ বাড়ির ক্ষতি হয়েছে৷ ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে মোট ১ লক্ষ ৩৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ দুর্গতদের সহায়তায় ৫ হাজার ১৩৪টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন৷

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা৷ এরপর দুই মেদিনীপুর,হাওড়া, হুগলি এবং নদীয়া৷ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কলকাতারও৷

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।