স্টাফ রিপোর্টার, মেচেদা: অবশেষে রহস্যভেদ হল। লোকাল ট্রেনের কামরা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত যুবকের পরিচয় মিলল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম হাসান আলি(৪৫)। তাঁর বাড়ি পাঁশকুড়া থানার গোবিন্দনগর এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি কলকাতায় থাকতেন। এবং সেখানে বউবাজার থানা এলাকার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে হোটেলের ব্যবসা ছিল তাঁর।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘায় প্রতিমা নামক একটি হোটেল লিজ নেওয়ার কথা ছিল হাসানের। সেইমত কয়েকজন ব্রোকারকে টাকা দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোমবার থেকে নিহতের বাড়ির লোক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনেকবার মোবাইলে ফোন করে। কিন্ত কোনও উত্তর না মেলায় সেদিন রাতেই পরিবারের তরফে তাঁর নামে পাঁশকুড়া থানায় নিখোঁজ ডাইরি করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে কারশেডে দাঁড়িয়ে ছিল মেচেদা লোকাল। সকালে সাফাইকর্মীরা ট্রেনের কামরা পরিস্কার করতে গেলে, ফাঁকা ট্রেনে একটি ট্রলিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ রেলের কর্মীদের। ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসে এক ব্যক্তির দেহ। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় জিআরপি ও স্থানীয় থানায়।

খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। আর এই ঘটনার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই খটকা লাগে হাসান আলির পরিবারের সদস্যদের। পরে ওই নিখোঁজ পরিবার এর লোকজনদের পাশকুরা জিআরপি থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে হাসান আলির মৃতদেহ শনাক্ত করে তাঁর বাড়ির লোকেরা।

এই বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ব্রোকাররাই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এই খুন করলেও করতে পারে। সবদিক খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পাঁশকুড়া জিআরপি থানার পুলিশ।