নয়াদিল্লি : এই মুহূর্তে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হচ্ছে ভারত “রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স” নামক একটি সংস্থার সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই আতঙ্কিত হওয়ার মতো তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষাটি বলছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৪৬ নম্বরে রয়েছে। আর দেশের সাংবাদিকদের এই সঙ্কটের জন্য কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার, বিজেপি দল ও হিন্দুত্ববাদকেই দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের মতো সুবিশাল গণতান্ত্রিক দেশে ক্রমেই স্বাধীনতা হারাচ্ছে সংবাদ মাধ্যম। সমীক্ষায় বলা হয়েছে বিজেপি সমর্থক ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি ধীরে ধীরে সাংবাদিকদের কাছে ত্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনও সাংবাদিক বা সংবাদ প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনা করলেই তাদের জাতীয়তা-বিরোধী বা রাষ্ট্রদ্রোহী বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। সমীক্ষাটিতে সুনির্দিষ্টভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উল্লেখ করে বলা হয়েচ্ছে, তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিজের কঠোর মুঠোয় আটকে রেখেছেন। তাঁর আমলে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিতে হামলা, রাজনৈতিক হিংসা নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সমীক্ষায় একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে নিষ্ঠার সঙ্গে ২০২০ সালে দেশে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে গিয়ে ৪ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাই এই দেশ সাংবাদিকদের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক।

“রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স” -এর ২০১৬-র সমীক্ষায় বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ১৩৩ তম। ২০১৭ সালে তিন ধাপ নেমে স্থান হয় ১৩৬। ২০১৮ সালে আরও দু’ধাপ নেমে হয় ১৩৮। এবার সেই সংখ্যা আরও কমল। এদিকে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো’র সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, ১৯৯২-২০১৬ এই ২৪ বছরে দেশে ৭০ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে বিজেপি বা আরএসএস-এর কোনও সমালোচনা করে খবর করলে সাংবাদিকদের হুমকি দিতেও পিছুপা হচ্ছে না বিজেপি সমর্থকেরা। উগ্র হিন্দুত্ববাদ দেশে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করছে। সরকারের সমালোচনা করলেই সাংবাদিকদের ও সেই সংবাদ মাধ্যমের ওপর রাজরোষে নেমে আসছে। সেই সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমকে “রাষ্ট্রবিরোধী” অথবা “দেশবিরোধী” তকমা দেওয়া হচ্ছে। সমীক্ষা বলছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংবাদমাধ্যমের ওপর নিজের ক্ষমতার চাপ প্রয়োগ করে রেখেছেন। পুলিশের হুমকি সহ, রাজনৈতিক দলগুলির হেনস্তা, সমাজ বিরোধী বা দুর্নীতিগ্রস্তদের লাগাতার আক্রমণ চলছে সাংবাদিকদের ওপর। ২০১৪ তে নারান্দ্রে মোদী ক্ষমতায় আসার পর সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের এই ধারা ততটা ছিল না যতটা হয়েছে দ্বিতীয়বার বিজেপি ভারতে ক্ষমতায় আসার পর। ২০১৯-এ নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিডিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে দেয়। লক্ষ্য একটাই, বিজেপির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা প্রচার করার করতে হবে। এটা না করলেই সেই সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম কালো তালিকাভুক্ত হয়ে যাবে।

তবে সমীক্ষায় সাংবাদিকদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে । ২৮টি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে “রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স” তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে ৫৯ % মানুষের ধারণা সাংবাদিকরা ইচ্ছা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যাকে সত্যি বলে চালান।তবে সমীক্ষায় এটাও বলা হয়েছে বিশ্বের ৭৩% দেশে সাংবাদিকদের অবাধে ও স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.