কলকাতা : গ্রামীণ সমাজ গঠনে মহিলাদের যোগদান আগের তুলানায় অনেক বেড়েছে। তারা কৃষি, পশুপালন, কাপড় সেলাই, জরির কাজ ইত্যাদির ব্যবসা করে নিজেদের সংসারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজের অর্থনীতিকেও সুদৃঢ় করে তুলতে সাহায্য করছেন। আর এদের এই ছোট ব্যবসাগুলোর পরিকাঠামোকে গড়ে তুলতে নগদ যোগানের মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভিলেজ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের (ভিএফএস) মতো দেশের ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলি। সামান্য একটা ঋণ কীভাবে পুরো পরিবারের জীবন বদলে দিতে পারে তারই উদাহরণ তুলে ধরেছে ভিএফএস।

ভিএফএস থেকে ঋণ নিয়ে খেলনার ব্যবসা করে এক সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন হাওড়া জেলার বালটিকুটির মৌসুমী দাস (৩৯)। কিন্তু ২০১০ সালে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো ছিল। শাড়ির ব্যবসায় প্রচুর লোকসানের জেরে মাথায় ঋণের বোঝা উঠেছিল। স্বামী সরকারি কার্যালয়ে পিয়নের কাজ করতেন। মাইনে যথেষ্ট ছিল না বাড়ির সব প্রয়োজন মিটিয়ে ঋণ শোধ করার পক্ষে। সারাদিন কিছু করার ছিল না মৌসুমীর, সমস্যার সমাধানও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ফলে অবসাদ দেখা দিল। ডাক্তার দেখাতে হলো তাকে। কিন্তু উপায় একটাই ছিল কিছু একটা কাজ করতে হবে। মৌসুমীর এক বন্ধু খেলনা তৈরি করে ডিলার কে সরবরাহ করত। কিন্তু হঠাৎ তাকে প্রয়োজনে ব্যবসা ছেড়ে অন্য জায়গায় শিফট করতে হয়। সে মৌসুমী কে এই ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেয়। মৌসুমী সাড়া দেয়, যদিও এই কাজের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না ওঁর। পুঁজিও সমস্যা ছিল। এই সময় তিনি ভিএফএসের কথা জানতে পারেন এবং সংস্থার বালটিকুটির শাখা থেকে ৩০০০ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা আরাম্ভ করেন। তিনি তার পরেও কয়েক দফায় ঋণ নিয়ে ব্যবসা বাড়িয়ে গিয়েছেন। ব্যবসা বেড়েছে, বহু শ্রমিকও নিয়োগ করেছেন কাজে। এমনকি গোডাউন ভাড়ায় নিয়েছেন বিক্রয়যোগ্য পণ্য গুলো স্টকে রাখার জন্য। মৌসুমী এখন ভিএফএসের এসএমই কাস্টমার হয়ে উঠেছেন। লকডাউনের সময় ব্যবসা বন্ধ থাকা সত্বেও কর্মচারীদের মাইনে দিয়েছেন এবং মোরাটোরিয়াম না নিয়ে ঋণও পরিশোধ করে গেছেন। এখন ব্যবসা স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় তিনি পরিশ্রম করে চলেছেন।

ঠিক মৌসুমীর মতো ঋণ নিয়ে নিজের সংসারে সচ্ছলতা এনেছিলেন হাওড়া জেলার বাঁকড়ার নিবাসী সাবেরা বেগমের (৪০)। স্বামী আর দুই সন্তান সহ সাবেরার চার-সদস্যের পরিবার নির্ভর থাকত স্বামী আখতার সর্দারের ছোট মুদিখানার দোকান থেকে আসা সামান্য আয়ের উপর। কিন্তু, সেই আয় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এবং সংসারের অন্য প্রয়োজন মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য নিজস্ব কিছু করার ভাবনা তাঁর মাথায় ঘুরছিল। অনেক ভাবনা-চিন্তার পর বাচ্চাদের জামা-কাপড় বানানোর ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু, এর জন্য পুঁজি দরকার ছিল এবং সেই তাগিদে তিনি ভিএফএসের নিকটবর্তী শাখায় যোগাযোগ করে প্রথমবার ঋণ নেন ২০১৩ সালে, ব্যবসা শুরু করার জন্য। তারপর একাধিক বার ঋণ নিয়ে ব্যবসা বাড়িয়ে গিয়েছেন সাবেরা। কিন্তু লকডাউনে অন্যদের মতো সাবেরার ব্যবসাও কিছুটা ব্যাহত হয়। এখন তার ব্যবসা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে, তাঁর অধীনে বহু কারিগর কাজ করেন। মোরাটোরিয়াম না নিয়ে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেছেন। এখন তিনি ভিএফএসের এসএমই কাস্টমার হয়ে উঠেছেন।

একই কাহিনী জিরাটের কালিঘর এলাকার মিঠু দাস (৪৪) এবং বালটিকুটির গীতা সাঁতরার (৪১)। ভিএফএস থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে নিজেদের সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন মিঠু আর গীতারা। তার পাশাপাশি রোজগার সৃষ্টি করে এলাকার বহু পরিবারের দারিদ্রতা মিটিয়েছেন। মিঠু বলেন “ভিএফএস আমার মতো অনেক গরিব মহিলাকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছে এবং আমাদের জীবনে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে”। মিঠু নিজের গ্রামে মাশরুমের চাষ করেন এবং গীতা জরির কাজ করেন।

রোজগারের জন্য ঋণ দিয়ে গরিব গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করার এই দৌড়ে নিজেদের অবস্থান ক্রমেই মজবুত করে চলেছে ভিলেজ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (ভিএফএস)। অঞ্জনা আর মোসুমীর পরিবারের মতোই দেশের মোট ১৩টি রাজ্যের ৫ লক্ষের বেশি পরিবারের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী এই সংস্থাটি। আর আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে ১০ লক্ষ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ও তাদের আর্থিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য রাখছে এই সংস্থা। ভিএফএসের কর্ণধার কুলদীপ মাইতি বলেন ‘আমাদের গ্রাহকদের ১০০ শতাংশই মহিলা। তাঁর মতে ‘বাড়ির মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই গরিব পরিবারগুলির দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব’। তিনি আরও যোগ করেন ‘মহিলারা স্বনির্ভর হলে তাঁরাও সমাজে আর্থিক উন্নয়নের শরিক হতে পারেন। সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে ক্ষমতাপ্রদান করতে পারেন।’

ভিএফএস ঋণ দেয়ার পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের সামনে রোজগারের বিভিন্ন উপায় তুলে ধরে আর বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টাকার সঠিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।