স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে, শুক্রবার সকাল থেকে তমলুকের শ্রীরামপুরে তমলুক- ময়না ব্রীজের ওপর আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখাল স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গোটা এলাকা জুড়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যার ফলে, প্রায় তিন ঘন্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকে ময়না- তমলুক সড়ক। দিনের ব্যস্ত সময়ে ব্যাপকভাবে যানজট তৈরি হয় রাস্তায়।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর তমলুকের শিমুলিয়া গ্রামের বধূ মুসকান বিবিকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্বামী সেক মেহেরাজের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে মুসকানের বাপের বাড়ির তরফ থেকে, অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে থানা তমলুক এবং ময়না থানাতে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে ঘটনার প্রায় এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ কোনও রকম হস্তক্ষেপ করেনি।

আর এই অভিযোগেই শুক্রবার সকাল থেকেই ব্রিজের ওপর টায়ার ও বাঁশ জ্বালিয়ে হাতে পোস্টার নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন প্রায় কয়েক হাজার গ্রামবাসী। যারফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ময়না-তমলুক সড়ক। রাস্তার উপর সারি সারি দাঁড়িয়ে পড়ে বাস লরি। অবরোধের খবর স্থানীয় ময়না ও তমলুক থানায় পৌঁছাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় দুই থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ উঠানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ধুন্ধুমার আকার নেয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মুসকানকে হত্যা করার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও দুই থানার পুলিশ কোনও রকম তদন্তে হস্তক্ষেপ করেনি। উল্টে পুলিশকে তদন্তের বিষয়ে বলা হলে, পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজ দেওয়ার কথা মুসকানের বাপের বাড়ির লোকজনকে বলে বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় মুসকানের বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়ের উপর অত্যাচার করা হত। এই বিষয়ে মেয়ে আমাদের বারবার জানালে আমরা ওর শ্বশুর বাড়ির লোকজনদেরকে বললেও ওরা কোনরূপ আমাদের কথা শোনেনি। উল্টে ওরা বলে যৌতুকের টাকা না দিলে অত্যাচার আরও বাড়বে। এই ভাবে বিয়ের তিন বছর পর গত ২৩ নভেম্বর মুসকানের বাপের বাড়ির কাছে খবর আসে মুসকান আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু শিমুলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মুসকানকে হত্যা করেছে ওর শ্বশুর বাড়ির লোকজনেরা।

এই ঘটনায় পরিবারের তরফ থেকে, তমলুক ও ময়না থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্ত স্বামী সেক মেহেরাজকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

আর এই অভিযোগ এই শুক্রবার সকাল থেকে ময়না ব্রিজের উপর টায়ার- বাঁশ নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েক হাজার গ্রামবাসী। ঘটনায় ময়না ও তমলুক থানার পুলিশ বাহিনী গিয়ে অভিযোগকারীদের বোঝালেও ওঠেনি বিক্ষোভ। এরপর র‍্যাফ নামালেও ওঠেনি অবরোধ।

এমন পরিস্থিতিতে তমলুক ও ময়না থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের তদন্তের আশ্বাস দিলে উঠে যায় বিক্ষোভ। এদিন অবরোধ তুলে নিলেও দ্রুত পুলিশ তদন্ত না শুরু করলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলন ও অনশনের হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনায় মৃতার বাবা পিন্টু মল্লিক বলেন, “পুলিশ কোনও রকম তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন না। বারবার তদন্তের কথা বলা হলেও পুলিশ আশ্বাস দেয় কিন্তু কোনও রকম তদন্ত শুরু করেনি এখনও পর্যন্ত। আমাদের দাবি, অভিযুক্ত সেক মেহেরাজকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক”। তবে এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ময়না ও তমলুক থানার পুলিশ।