স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট৷ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চ এই রিপোর্ট তলব করেছে৷ আগামী ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

দিলীপ ঘোষ শুধু রাজ্য বিজেপির সভাপতিই নয়, তিনি খড়গপুর (সদর) বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক৷ স্বাভাবিক ভাবেই আদালত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে৷ দিলীপ ঘোষের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা করে করেছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন নেতা অশোক সরকার৷ পরে তিনি বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত হন৷ এর আগে দিলীপবাবু বিরুদ্ধে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন অশোকবাবু৷ তিনি এখন শিবসেনার পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক৷

মঙ্গলবার, আবার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন অশোক সরকার৷ তাঁর বক্তব্য,‘‘২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন দিলীপবাবু৷ তখনই আমার সন্দেহ হয়েছিল৷ জানতে পারলাম যে কলেজের ছাত্র বলে দাবি করে করছেন দিলীপবাবু, সেই ঝাড়গ্রাম পলিটেকনিক কলেজ,নামে কোনও কলেজই নেই খড়গপুরে৷ তার বদলে রয়েছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পলিটেকনিক কলেজ৷ ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আরটিআইয়ে জানতে চেয়েছিলাম, ঝাড়গ্রামের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পলিটেকনিক থেকে দিলীপ পাশ করেছিলেন কি না? তার জবাবে ওই কলেজের শুক্রবার অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ১৯৭৫-১৯৯০ সালের মধ্যে দিলীপ ঘোষ নামে কেউ ওখান থেকে পাশ করেননি।’’

অশোকবাবু আরও বক্তব্য, ‘‘পরে আমি ব্যক্তিগতস্তরে খোঁজখবর শুরু করি৷ জানতে পারি দিলীপ ঘোষ, রাজ্য বিজেপির সভাপতি, ক্লাস এইট পাশ৷ ২০১৭ সালেই কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা করি৷ কারণ কোনও জনপ্রতিনিধি মিথ্যা কথা বলতে পারেন না৷’’

২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে হলফনামা জমা দেওয়ার সময় দিলীপবাবু যে তাতে ভুল করেছিলেন, তা তিনি পরে মেনে নেন৷ আদতে তিনি ঝাড়গ্রামের সেবায়তনের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পলিটেকনিক থেকেই ডিপ্লোমা করার কথা বলেছেন। কিন্তু হলফনামায় ডিপ্লোমা শেষ করার সাল উল্লেখ করেননি দিলীপ।

যদিও লোকসভা নির্বাচনের আগে বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়েছে৷ এর নেপথ্যে, বিরোধীদের চক্রান্তের তত্ত্বই দেখছে রাজ্য বিজেপি৷ রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি বিশ্বপ্রিয় চৌধুরি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তির জনপ্রতিনিধি হওয়া তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর নির্ভর করে না৷ সংসদীয় গণতন্ত্রে কোথাও জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা হয় না৷ আমরাএ চাই নির্বাচন কমিশন আদালতকে রিপোর্ট দিক৷ আমার বিশ্বাস আদালত বুঝবে এই মামলার কোনও সারবত্তা নেই৷ সব থেকে বড় কথা, এই সব করে কী বিজেপি-কে রাজ্যে দমিয়ে রাখা যাবে৷ মানুষের মনে বিজেপি স্থান করে নিয়েছে৷’’