স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য চিকিৎসকদের কর্মবিরতির সময় জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা আয়োগের চেয়ারম্যান অনন্যা চক্রবর্তী।

এমনই পরিস্থিতিতে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিয়াঙ্ক কানুনগো হাসপাতাল পরিদর্শনে এলেন কলকাতায়। শহরের হাসপাতালগুলি দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অভিয়োগ করেন, বেড খালি থাকলেও শিশুদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না কোনও কোনও জায়গায়।

প্রিয়াঙ্ক কানুনগো দাবি করেন, এই মুহূর্তে শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একেভাবেই ভাবনাচিন্তা না রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন।

কানুনগোর দাবি অবশ্য মানতে নারাজ অনন্যা চক্রবর্তী। তাঁর মতে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার অনুরোধ করা হয়েছে। অনন্যা চক্রবর্তী Kolkata24x7.com-কে বলেন, প্রিয়াঙ্ক কানুনগো আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তাঁর অফিসিয়াল প্রোগ্রামের মধ্যে হসপিটাল ভিজিট বলে কিছু লেখা ছিল না। উনি ফ্লাইটে করে কলকাতায় আসেন রাত্রিবেলায়। পরের দিন গ্রেন্ড হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফিরে যাবেন। এমনই কথা ছিল। এয়ারপোর্টে নামার পর আমার সঙ্গে কথা হয়। উনি আমাকে গুণাক্ষরেও জানাননি যে, হাসপাতাল পরিদর্শনে যাবেন! তিনি বলেছেন, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি ছিল। একথা পুরোটাই মিথ্যে।”

অন্যদিনে সাগর দত্ত হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটানা প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, সাগর দত্ত হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জন্য তিনি তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। যদি গ্রহণ করত তাহলে সেই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসার জন্য অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা যেত এবং শিশুটি মারা যেত না।

প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষের বক্তব্য যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে কি সাগর দত্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেবে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন? এ ব্যাপারে সংস্থার চেয়ারম্যান অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, “আমরা রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। আমরা আবারও তাঁদের কাছে জানতে চাইব, ডক্তারদের কর্মবিরতির জেরে রাজ্যে শিশু চিকিৎসার কীরকম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সময় আমরা এই বিষয়ে অনুসন্ধান করব।”