সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: সমস্যায় রয়েছেন তাঁরাও। গত এক মাস ধরে হাওড়া আদালতে আইনজীবীদের প্রতিবাদের জেরে স্তব্ধ সমস্ত মামলা। আজ ,কাল, পরশু করে একের পর এক দিন গিয়েছে। হাইকোর্টের রায় মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বুধবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ আইনজীবীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ কাণ্ডের রায়দান করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে মাঝে কেটেছে ২৮টি দিন অর্থাৎ প্রায় এক মাস। প্রত্যেকটা দিন সমস্যার মধ্যে পরেও আইনজীবীদের সঙ্গেই থেকেছেন তাঁদের মক্কেলরাও। এমনটাই জানাচ্ছে হাওড়া কোর্ট বার কাউন্সিল।

হাওড়া আদালতে পুরসভার জায়গায় এক আইনজীবীর গাড়ি রাখা নিয়ে বচসার শুরু। সেখান থেকে পুরকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি, পুলিশের হাতে আইনজীবীদের প্রহৃত হওয়া এবং গোটা রাজ্যের বিচার ব্যবস্থার থমকে থাকা এক মাস পূর্ণ হতে চলেছে। এই যে অচল অবস্থা তার প্রভাব সবথেকে বেশি পড়ছে বিচারপ্রার্থীদের উপর। একেই কোনও মামলা আদালতে গড়ানো মানে তার বিচার কবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে হাপিত্যেশ করতে হয়, এমনই অভিযোগ রয়েছে আম জনতার। তার উপর যদি এমন এক মাস ধরে আইনজীবীদের পেন ডাউন নামক প্রতিবাদী আন্দোলন চলে তাহলে দিনের শেষে মাথা খোঁড়া ছাড়া উপায় থাকে না বিচারপ্রার্থীদের। কিন্তু এক্ষেত্রে একটু অন্যরকম হয়েছে।

হাওড়া ক্রিমিনাল কোর্ট বার লাইব্রেরির প্রেসিডেন্ট সমীর বসু রায়চৌধুরি বলেন , “সেদিনের ঘটনার সময় আমাদের বহু মক্কেল পুলিশের হাতে অকারন মার খেয়েছে। যারা পুলিশের মার খাননি তারা ঘটনাটা সামনে থেকে দেখছেন। তারা দেখেছেন কিভাবে পুলিশ অত্যাচার চালিয়েছে, কিভাবে আইনকে হাতে তুলে নিয়েছে পুলিশ। তাই এই একমাসের পেন ডাউনে ওঁরাও আমাদের পাশে রয়েছেন। প্রত্যেক আইনজীবীদের সঙ্গেই রয়েছেন। মক্কেলরাও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। আজকের রায়ের দিকে তাঁরাও তাকিয়ে ছিলেন কারণ এক দিক দিয়ে যেমন তাদের বিচারের কাজ যেমন শুরু হবে তেমনই ভালো কিছুর আশাতে ছিল প্রত্যেক মক্কেল। সেটা হয়েছে”

হাওড়ায় আইনজীবীদের উপর অকথ্যভাবে লাঠিচার্জে ঘটনার শুনানি ছিল। বিচারপতি বিশ্বনাথ সম্মাদারের ডিভিডশিন বেঞ্চের শুনানির শেষে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দেশে আদালত প্রাক্তন বিচারপতি কল্যাণজ্যোতি সেনগুপ্তের নেতৃত্বে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানায়। আগামী তিনমাসের মধ্যে এই কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে আদালতে। শুধু তাই নয়, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তৈরি এই কমিটি সুপারিশ করবে যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলবে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের সিপি বিশাল গর্গসহ পুলিশ আধিকারিক রাজর্ষি দত্ত, ভাবনা গুপ্তা, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ধিপেন তামাং, গুলাম সাবার এবং ভিএসআর আনন্দ কুমারের বিরুদ্ধে। আর এই তদন্ত চলাকালীন এই সাতজন পুলিশ আধিকারিক হাওড়া জেলার কোনও দায়িত্বে থাকতে পারবে না বলে নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

আইনজীবীদের ‘পেন ডাউন’ প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল গত ২৫ এপ্রিল। এই নিয়ে মামলা চলাকালীনই হাইকোর্ট কর্মবিরতি তোলার অনুরোধ করেছিল। তবে আইনজীবীরা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সেটা সম্ভব নয়। রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট, এবার হাওড়া কোর্টের কর্মবিরতি উঠবে কি না সেটাই দেখার।

২৪এপ্রিল সকাল দশটা থেকে বেলা ৫ টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে হয় হাওড়া পৌরনিগমের কর্মী ও হাওড়া আদালতের উকিলদের মধ্যে। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল ইটবৃষ্টি হয় । আহত হয়েছিলেন দু’পক্ষের কমপক্ষে ১০জন । হাওড়া কোর্ট ও পুরসভা সংলগ্ন এলাকায় সেন্ট থমাস স্কুলের অভিভাবক ও ছাত্র ছাত্রীরাও সমস্যাতে পড়েন এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামনে হাওড়া থানা ছাড়াও গোলাবাড়ি, মালিপাঁচঘড়া সহ দু’তিনটে থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তাতেও গন্ডগোল থামানো যায়নি । এরপর লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ।