হুগলি : হুগলি জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা কালিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৭ খ্রীস্টাব্দে গোড়ার দিকে নৈহাটির কাঁঠালপাড়া থেকে সপরিবারে উঠে আসেন চুঁচুড়ার জোরাঘাটস্থিত একটি ভাড়া বাড়িতে। দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি এই বাড়িতে অতিবাহিত করেন। তাঁর কর্মস্থলের আবাসন গুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বাসভবন হল চুঁচুড়ার এই ভাড়া বাড়িটি। জাতীয়তাবাদের ইতিহাসের সর্ব উচ্চারিত মন্ত্র হল “বন্দেমাতরম”। এই মন্ত্রমালা কন্ঠে নিয়ে হাজার হাজার দেশপ্রেমি হাঁসি মুখে আত্মবিসর্জন দিয়েছেন একদিন। এই মন্ত্রমালা ‘বন্দেমাতরম’ চুঁচুড়ায় এই জোরাঘাটে বসেই রচনা করেছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়া উক্ত স্থানে বসেই তিনি আরো রচনা করেছিলেন ‘রজনী’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘আনন্দমঠ’ ইত্যাদি। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত ‘আনন্দমঠ’। এই উপন্যাসে দেশপ্রেম ফুটে তুলেছিলেন।

উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্য এর যে রেনেসাঁ যুগের সূচনা হয় তার এক উজ্জ্বল জোতিষ্ক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ খ্রীস্টাব্দে ২৬ জুন মঙ্গলবার ৯টা ৩০ মিনিটে দুর্গাদেবী গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দের আদিনিবাস ছিল হুগলি জেলার দেশমুখো গ্রামে।

মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৮৪৯ সালে হুগলি কলেজে (অধুনা হুগলী মহসিন কলেজ) ভর্তি হন। এখানে তিনি সাত বছর পড়াশোনা করেন। সেকালে হুগলি মহাসিন কলেজ দুটি বিভাগে বিভক্ত ছিলো, ইংরেজি বিভাগ কলেজ ও কলেজিয়েট স্কুল। সিনিয়ার ডিভিশন সেকশ্যান ‘এ’ এবং জুনিয়র ডিভিশন সেকশ্যান ‘বি’। তারমধ্যে সিনিয়ার ডিভিশনের তিনটি শ্রেনী এবং জুনিয়ার ডিভিশনে চারটি শ্রেনী ছিলো। প্রথম অবস্থায় বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়া হত। ১৮৪৬ খ্রীস্টাব্দে ইংরেজি মাস থেকে ‘কাউন্সিল অব এডুকেশন’ বিনা বেতনে শিক্ষা দেবার প্রথা এই কলেজ থেকে তুলে দেন।

সিনিয়ার বিভাগের ছাত্রদের থেকে তিন টাকা এবং জুনিয়ার বিভাগের ছাত্রদের দুই টাকা বেতন কাউন্সিল অব এডুকেশন ধার্য করে।অক্ষম ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্রদের বেতন দিতে হত না। এই সময় থেকে এই কলেজ হুগলি কলেজ নামে অভিহিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি কলেজ পড়াকালীন ১৮৫৩ সালে জুনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মাসিক আট টাকা বৃত্তি লাভ করেন।

ওই বছরেই সংবাদ প্রভাকরে কবিতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কুড়ি টাকা পুরস্কার লাভ করেন। হুগলি কলেজ অধ্যয়নকালেই বঙ্কিমচন্দ্র কবিবর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর ও সংবাদ সাধুরঞ্জনে গদ্য-পদ্য রচনা আরম্ভ করেন। পরবর্তীকালে তার বহু রচনা এই দুই কাগজে প্রকাশিত হয়। হুগলি কলেজ ১৮৫৬ সালে সিনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সব বিষয়ে বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তিনি দুই বছরের জন্য কুড়ি টাকা বৃত্তি লাভ করেন। এই বছরই তিনি হুগলি কলেজ ছেড়ে আইন পড়বার জন্য কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৮৫৭ সালে জানুয়ারী মাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এন্ট্রান্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষা প্রবর্তন করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজের আইন বিভাগ থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরের বছর ১৮৫৮ সালে প্রথমবারের মতো বি.এ. পরীক্ষা নেওয়া হয়। মোট দশজন ছাত্র প্রথমবারে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। উত্তীর্ণ হয়েছিলেন কেবলমাত্র বঙ্কিমচন্দ্র ও যদুনাথ বসু।

তার বাবার মতো তিনিও সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্‌টার পদে। সারা জীবন তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যান। স্বীকৃতি স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে দুটি খেতাবে ভূষিত করে – ১৮৯১ সালে রায় বাহাদুর খেতাব এবং ১৮৯৪ সালে কম্প্যানিয়ন অফ দ্য মোস্ট এমিনেন্ট অর্ডার অফ দ্য ইন্ডিয়ান এম্পায়ার খেতাব। তবে সরকারি কর্মকর্তা নয় বরং লেখক এবং বাঙলা তথা ভারতের নবজাগরণের অন‍্যতম মুখ হিসেবেই তিনি অধিক প্রখ্যাত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।