প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও করোনা চিকিৎসায় হাওড়ার সঞ্জীবনী হাসপাতালের পরিকাঠামো দেখে খুশি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দেওয়া চিঠিতে এব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় দলের প্রধান অপূর্ব চন্দ্র।

শুক্রবার হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনে গিয়েছিল কেন্দ্রের আন্তঃমন্ত্রক দল। সঞ্জীবনী কোভিড হাসপাতাল, ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, সালকিয়া কন্টেইনমেন্ট জোন ঘুরে দেখার পর শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দেন অপূর্ব চন্দ্র।

ওই চিঠিতে কেন্দ্রীয় দল লিখেছে, “অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালিত সঞ্জীবনী হাসপাতালে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে।”

তবে হাসপাতালে কর্মী সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপূর্ব চন্দ্র। তিনি লেখেন, ‘‘৩২০ বেডের সঞ্জীবন হাসপাতালে এই মুহূর্তে ৭০ জন কোভিড রোগী রয়েছেন। যাঁরা তাঁদের চিকিৎসা করছেন তাঁরা প্রত্যেকেই পিপিই পরে চার ঘণ্টা করে ডিউটি করছেন। ওই ভাবে একটানা ১৪ দিন কাজ করার পর তাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। আনা হচ্ছে আর একটি দলকে। এতে একধাক্কায় হাসপাতালের কর্মীসংখ্যা চারভাগের এক ভাগে এসে ঠেকেছে। তাই ৩২০টি বেড থাকলেও আর রোগী ভর্তি নেওয়ার ক্ষমতা নেই ওই হাসপাতালের।’’

ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে চরম অব্যবস্থা চোখে পড়েছে বলে এ দিন অভিযোগ করেছেন অপূর্ব চন্দ্র। মুখ্যসচিবকে লেখা দ্বিতীয় চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘‘ডুমুরজলা কোয়রান্টিন সেন্টারে যেখানে ১১৮ জন থাকতে পারেন, সেখানে এই মুহূর্তে ৮০ জন রয়েছেন। এখানে সাত দিন পর তাঁদের পরীক্ষা শুরু হয়। তারও দু’-তিন দিন পর রিপোর্ট এসে পৌঁছয়। ছোট গাড়িতে গাদাগাদি করে তাঁদের পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কয়েক জন। রাজ্য সরকার মোবাইল নিয়ে নেওয়ায় বাড়ির লোকের খবর নিতে পাচ্ছেন না অনেকে। পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসা সত্ত্বেও এক ব্যক্তিকে সেখানে থেকে দু’সপ্তাহ পর মুক্তি পান। এত দিন ওখানে থাকতে থাকতেও সংক্রমণ হতে পারত তাঁর।’’

সালকিয়াতে লকডাউন আঁটোসাঁটো হলেও, সেখানে জেলাস্তরের কোনও আধিকারিকের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি বলে জানান অপূর্ব চন্দ্র।

এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জোড়া চিঠি দিয়েছে ওই কেন্দ্রীয় দল। যেখানে তারা রাজ্যের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে। তাঁদের কথায়, “কেন্দ্রীয় নির্দেশের অবমাননা করেছে রাজ্য।” এমনকি, কেন্দ্রীয় দলের নিরাপত্তার দায়িত্বও রাজ্য নেয়নি বলে সরব হয়েছে তারা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV