স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঠিক হয়নি বিজেপির৷ মাত্র ২৮টি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে৷ সেই নাম গুলি নিয়েও কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে৷ লোকসভা নির্বাচনের সূচনা পর্বে দলের এই সঙ্কটকে অঙ্কুরেই বিনাশ করতে কর্মীদের চাগিয়ে তুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

কর্মীদের উৎসাহ বাড়াতে দিলীপের বক্তব্য, ‘‘বিজেপির নির্বাচনের প্রচার শুরুই করেনি৷ কিন্তু চর্চা বিজেপিকে নিয়েই চলছে৷ বিজেপি নেতারা দিনরাত পরিশ্রম করছে৷ পার্টি নিজের জীবন দান করেছেন৷ আজ তাঁদের পরিশ্রমের জন্যই পার্টি বাংলায় ভালো জায়গায় রয়েছে৷ তাদের তপস্যা আমাদের পায়ের তলায় মাটি দিয়েছে৷’’

দিলীপের বক্তব্য, ‘‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলার সন্তান হয়েও সারা ভারতের অখণ্ডতার চিন্তা করেছিলেন৷ বিজেপি কর্মীরা শ্যামাপ্রসাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ৷ আজ যেখানে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা ভূলুন্ঠিত হয়েছে মানুষ তখন বিজেপিকেই একমাত্র মুক্তির পথ হিসেবে দেখতে চেয়েছে৷’’

রাজ্য বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে৷ প্রথম দফায় যে ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে – তাদের বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে দলের অন্দরেই বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে৷ বেশ কিছু জায়গায় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগানো হয়েছে – যা দেখে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বেশ চিন্তিত৷

শনিবার সকালে কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে দক্ষিণবঙ্গের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন রাজ্য নেতৃত্ব৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীদের বিশেষ বার্তা দেওয়ার এই কর্মসূচী যদিও পূর্বনির্ধারিত, তবে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে প্রার্থীদের অকত্রিত থাকার বার্তা দিয়েছেন৷

ইতিমধ্যেই বিজেপি সূত্রে যা জানা গিয়েছে, এপ্রিলেই রাজ্যে প্রচারে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৩ এপ্রিল ব্রিগেডে বিজেপির জনসভা। সেখানেই মূল বক্তা হিসেবে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আসবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও। এপ্রিলে রাজ্যে মোট চারটি জনসভা করার কথা রয়েছে অমিতের৷

প্রসঙ্গত ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যে উত্তর ২৪ পরগণার ঠাকুরনগর এবং জলপাইগুড়িতে জনসভা করেছেন নরেন্দ্র মোদী৷ রাজ্যে সভা করে গিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবরা৷ ব্রিগেডে যদিও মোদীর সভা করার প্রস্তাব আগে থাকলেও তা করা যায়নি৷ নির্বাচনের মুখেই তা করা হবে বনে স্থির ছিল৷