সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : শীতকাল, পূর্ণিমার চাঁদ। নদীর জলে আলো পড়ে চিকচিক করছে। জল অবশ্য হাঁটু পর্যন্ত। নিস্তরঙ্গ জলে যেন তরঙ্গের শব্দ দেওয়ার চেষ্টা ঝিঁঝিঁর ডাক। সবমিলিয়ে এক রোম্যান্টিক পরিবেশ। হঠাৎ ছন্দপতন। বেশকিছুক্ষণ ধরে কিছু চেনা কিন্তু মিশ্র অচেনা শব্দ। অনেকটা কোনও পশুর গোঙানি সঙ্গে লুকিয়ে কোনও অপকর্ম সেরে পালানোর চেষ্টা। অনেকটা এভাবেই গরুমারার জঙ্গলে গণ্ডারটিকে মেরে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে খর্গ। বনদফতরের প্রাথমিক তদন্তের সূত্রে এমন তথ্যই উঠে আসছে।

গণ্ডার খড়গের চোরাপাচারের মূলে আবার রয়েছে মণিপুরি ‘শার্প শ্যুটার’। না হলে এমন নিখুঁত ভাবে অপকর্ম সেরে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তিন জন ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে জলদাপাড়ার গণ্ডার কাণ্ডে। কিন্তু এরাই মূল অভিযুক্ত নয় বলেই ধারনা বনদফতরের। এই চোরাপাচার কাণ্ডের জাল ছড়িয়ে রয়েছে মণিপুর পর্যন্ত। সেখান থেকেই দক্ষ শ্যুটার দিয়ে কাজ সাঙ্গ করা হয়েছে বলে আভাস মিলছে। এর সঙ্গে দফতরের কারোর যোগ রয়েছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। স্থানীয়যোগ কতটা সক্রিয় সেটাও দেখা হচ্ছে বলে জানাচ্ছে বনদফতর।

পড়ুন: ‘প্রেম আমার টু’ এর হিরো-হিরোইনকে দেখেছেন কি…

ইতিমধ্যেই ময়না তদন্ত হয়েছে খর্গ কেটে নিয়ে যাওয়া গণ্ডারের দেহ। গত ৭২ ঘণ্টায় যে তদন্ত হয়েছে সেই অনুযায়ী যে তথ্য উঠে আসছে সেই অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, গণ্ডারটি ছিল শুল্কাপাড়া এবং জিরোবাগের মাঝে। বনদফতরের ধারনা, জিরোবাগ দিয়ে প্রবেশ করেছে ওই দলটি। তারপরেই দূর থেকে পাইপগান জাতীয় কোনও বন্দুক থেকে বেড়িয়ে আসে বিষে ভরা পিন। গণ্ডার জ্ঞান হারাতেই খর্গ কেটে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। বনদফতর সূত্রে খবর, গণ্ডারের দেহ থেকে কোনও গুলি মেলেনি। তাই রাতের অন্ধকারে দূর থেকে নিখুঁত নিশানা দিয়ে গণ্ডারকে জ্ঞানহীন করেই সারা হয়েছে কাজ।

জলদাপাড়া

অন্ধকারে এত নিখুঁত নিশানা একমাত্র মণিপুরি প্রশিক্ষিত শ্যুটারদের পক্ষেই সম্ভব বলে ধারনা বনদফতরের। তবে রাতের অন্ধকার মানে পুরো অন্ধকার ছিল না। আলো হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে পূর্ণিমার চাঁদ। নিশানা সঠিক হওয়ার পরে হাঁটুজল নদী পেরিয়ে এপারে এসে গণ্ডারের শৃঙ্গ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

পড়ুন: বিয়ের দিনে নিখোঁজ বিজ্ঞানী, ব্যস্ত রইলেন গবেষণায়

ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত বনদফতর। এলাকায় হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। চলছে পুলিশের টহল। এমন ঘটনা শেষ ঘটেছিল ২০১২ সালে। তারপর ২০১৬-১৭ সালে এমনই একটি গণ্ডারের সিং চোরাশিকারের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালেও ফের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই অভিজুক্তরা ধরা পড়েছে। কিন্তু মূলছিন্ন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রানীটিকে সুরক্ষা দেওয়া এই শব্দটাই এখন প্রশ্নের মুখে।