অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে ১৮ ঘণ্টা ধরে এক যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় স্তম্ভিত সারা দেশ। বাংলার বিশিষ্টজনরাও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। বিশিষ্ট সাহিত্যিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এই ঘটনার ধিক্কার জানিয়েছেন।

তিনি মনে করেন ভারতবাসীর কাছে রামের ক্রোধী মূর্তি তুলে ধরছেন হিন্দুত্ববাদীরা। রামায়ণ ও মহাভারত নিয়ে তাঁর গবেষণাধর্মী ও মৌলিক লেখালিখির কথা অনেকেই জানেন। ‘মহাভরতের অষ্টাদশী’ বইটির জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু রামের এমন ছবি রামায়ণে খুঁজে পাননি নৃসিংহপ্রসাদ।

ঝাড়খণ্ডে মৃত ওই যুবকের নাম তাবরেজ আনসারি। তাঁকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলিয়ে বেধড়ক মারধর করে কয়েকজন যুবক। মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি মোটরবাইকের সামনে ওই যুবককে দাঁড়াতে দেখে মোটরবাইক চোর সন্দেহ করে ওই যুবকরা। তারপরেই শুরু হয় নৃশংস অত্যাচার।

২৪ বছরের ওই মুসলমান যুবকটিকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে হিন্দুত্ববাদীদের দিকে। পুলিশ তাবরেজকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। ঝাড়খন্ডে গত দু-তিন বছরে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে এমন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বারেবারেই প্রকাশ্যে এসেছে।

কিন্তু উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কর্মকান্ডের কঠোর নিন্দা করেন সাহিত্যিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি। তিনি Kolkata24x7-কে বলেন, “পুরাকালের ডাকাতেরা ‘জয় কালী’ বলে ডাকাতি করতে যেত। এখন কিছু মানুষ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে মানুষ খুন করছে। তাদের চেহারা দেখে মনে হয় সমস্ত কিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে। রামের এমন ছবি আমি মূল ও প্রাদেশিক রামায়ণে দেখিনি। রামায়ণে অস্ত্র ছাড়ার কথা বলা আছে। রামকে অস্ত্র কাঁধে নিয়ে ঘুরতে বারণ করেছিল স্বয়ং সীতা। অস্ত্রের এমন একটা সমস্যা, যেটা হাতে থাকলে মানুষ অংহবোধ করে। সে জন্যই আজ ঢাল তলোয়ার নিয়ে রামনবমী পালন হয়।”

শুধু ঝাড়খন্ড নয়, বিজেপি শাসিত ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব প্রায়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসে। বাংলাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে রামনবমীতে অস্ত্রমিছিল মোটেই ভালো চোখে দেখেনি বাংলার মানুষ। বাংলা ভাষার কবি শ্রীজাতকে একটি কবিতার জন্য আক্রান্ত হতে হয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে। পরিস্থিতি যেন ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। কিন্তু এই সাম্প্রদায়িকা থেকে আমাদের মুক্তি পাওয়া দরকার। এমনটাই মনে করেন নৃসিংহপ্রসাদ।

সেই সঙ্গে তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “ভারতবাসীর কাছে রামের ক্রোধী মূর্তি তুলে ধরছে বিজেপি। মানুষকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। এটাই বিজেপির ধর্ম। এতে আমার প্রবল আপত্তি আছে। হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানকে আলাদা করা হচ্ছে। এর থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”