কলকাতা: সোমবার লোক সভায় পাশ হল নাগরিক সংশোধনী বিল। নিম্নকক্ষে ভোটের ভিত্তিতে পাশ হয় এই বিল। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৩টি এবং বিপক্ষে ৮২টি। বিল নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এতে মুসলিমরা উপেক্ষিত হবেন। এটা কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের বহুদিনের পরিকল্পনা। এর মধ্যে দিয়ে ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত হবে। এমনটাই মনে করেন প্রাক্তন নকশাল নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায়।

তিনি kolkata24x7-কে বলেন, “সিটিজেনশিপকে রিফাইন করতে চাইছে বিজেপি। এর ভিত্তি ধর্ম। যে সব মুসলিমরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে থেকে যেতে চান, তাদেরকে ওরা রাখবে। এছাড়া আর কাউকে রাখবে না। আমার মনে হয় এর মধ্যে দিয়ে পুরো ইতিহাসটাকে গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

সোমবার সংসদে অমিত শাহ বলেন কংগেস ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করেছেন। কিন্তু অসীম চট্টোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, “আজ অমিত শাহ বললেন, কংগ্রেস যদি সেই সময় ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ না করত তাহলে এই সমস্যাগুলো হত না। যেন কংগ্রেস ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ চেয়েছিল। কিন্তু কোনওদিনই কংগ্রেসের এমন দাবি ছিল না। এটা মুসলিম লিগের দাবি ছিল। কংগ্রেস এটা মেনে নিতে বাধ্য হয়।”

বরং কংগ্রেস সব ধর্মের মানুষকে নিয়েই চলতে চেয়েছিল। অসীম বাবুর কথায়, “মনে পড়ছে মুসলিম লিগ তখন বলত আমরা ইসলামের পার্টি। তোমরা হিন্দুর পার্টি। সেই সময় গান্ধী, নেহরু বলেছিলেন– হিন্দুর পার্টি নয়, কংগ্রেস পলিটিকাল পার্টি। তোমরা ধর্মের ভিত্তিতে দেশ গড়েছো। কিন্তু আমরা মানুষের জন্য দেশ গড়ব।”

নাগরিকত্ব সংশোধন হলে গুরুত্ব পাবে হিন্দুরা। এতে দেশে ঝামেলা বাড়বে। এক সময়কার হেরে যাওয়া মনে রেখেই ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে বিজেপি। এমনটাই মনে করেন প্রাক্তন নকশাল নেতা। তাঁর মতে, “সেই লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিল আরএসএস। তাই ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে বিজেপি। হিন্দু রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাইছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পনা এটা। এতে সাড়া দেশে ঝঞ্ঝাট বাড়বে। এবং বিজেপি সরকার দেশকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে।”

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও