সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: এ এক অদ্ভুত ‘সিলসিলা’। যা শেষ হয়েও শেষ হতে চায় না। কোনও না কোনও ভাবে দুই বিখ্যাত নায়িকাকে মুখোমুখি এনে দেয় সময়। আর যখনই মুখোমুখি হয়েছেন দু’জনে চলেছে ঠাণ্ডা লড়াই। জয়া বচ্চন এবং রেখা।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের গরম বাজারে রাজনীতি নিয়ে তোলপাড় দেশ৷ তাঁরা এই লড়াইয়ে নেই। কিন্তু তাঁরা দুজনেই সাংসদ৷ এতে রাজনীতির লড়াই না থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের শীতল যুদ্ধ চলছে ৪০ বছর ধরে৷ দুজনের মাঝে অমিতাভ।

আরও পড়ুন- ‘মানব প্রেমী’ দলের প্রার্থী হতে চান ‘শরতের আকাশ’ লক্ষণ

রেখা যেদিন রাজ্যসভায় শপথ নিয়েছিলেন সেদিন থেকেই যেন শীতল লড়াই আরও বেড়ে গিয়েছে। প্রথম দিনেই ঝগড়া লেগে গিয়েছিল। রেখার শপথ গ্রহণের সময় রাজ্যসভা টিভির সম্প্রচারে জয়াকে একনাগাড়ে দেখানো হচ্ছিল। এতেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন জয়া। পরে জানা যায়, ক্ষুব্ধ জয়া রীতিমত তৎকালীন রাজ্যসভার অধ্যক্ষ তথা উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির কাছে অভিযোগ করেন৷ যদিও রাজ্যসভার তরফে সেটি নাকচ করা হয়৷

আরও পড়ুন- দুর্গাপুরের চারবারের সাংসদের উপরেই বিষ্ণুপুরে আস্থা রাখল CPM

রাষ্ট্রপতির মনোনীত রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে যেদিন রেখার নাম ঘোষণা হয়, সেদিন থেকেই সংসদে রেখা-জয়ার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে প্রবল কানাঘুষো শুরু হয়েছিল। কিন্তু এইসব গুঞ্জন বাদ দিয়ে প্রকৃত সত্যটা হল, রেখা আসবেন শুনেই রাজ্যসভায় নিজের আসনটি পরিবর্তন করে নিয়েছিলেন জয়া বচ্চন। তিনি আগে ৯১ নম্বর আসনে বসতেন। সেটাই তাঁর জন্য বরাদ্দ ছিল। পরে হামিদ আনসারিকে জানিয়ে ৯১ থেকে ১৪৩ নম্বর আসনে চলে যান জয়া৷ কারণ সদ্য সাংসদ হওয়া রেখার আসন নম্বর ছিল ৯৯। আসন না পরিবর্তন করলে রেখার মুখ দেখতে হতো বলেই তিনি আসন পরিবর্তন করেছিলেন বলে গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে।

এরপরেও দুজনের ঠাণ্ডা লড়াই সামনে চলে আসে অমিতাভ বচ্চনের ‘১০২ নট আউট’-ছবির স্ক্রিনিংয়ে। ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে এসেছিলেন রেখা। সবার সামনে বিগ বি-র প্রশংসা করেন রেখা। তাতেই নাকি বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন জয়া বচ্চন। ‘স্টার ডাস্ট অ্যাওয়ার্ড’-এর মঞ্চে বচ্চন বধূ ঐশ্বর্য রেখাকে সর্বসমক্ষে ‘রেখা মা’ বলে সম্বোধন করায় ফের সামনে চলে এসেছিল জয়া-রেখা’র তিক্ত সম্পর্ক। যদিও ভিতরের ঘটনা অন্য ছিল। আসলে রেখা তামিলনাড়ুর এবং ঐশ্বর্য আদতে কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরের বাসিন্দা। দক্ষিণ ভারতের রীতি অনুযায়ী কোনও নারী অপর নারীকে সম্মান জানিয়ে ‘মা’ সম্বোধন করেন। সেটাই করেছিলেন ঐশ্বর্য। কিন্তু গুঞ্জন? সে থামার নয়।

যেদিন থেকে অমিতাভের জীবনে রেখা এসেছিলেন সেদিন থেকেই ‘ হৃদয়ে রক্তাক্ত ‘ হয়েছে জয়ার। তবে ২০১৬ সালে একটি পুরস্কারের অনুষ্ঠানে জয়া – রেখা রীতিমত হলায় গলায় জড়িয়ে ছিলেন একে অপরকে, যা চমকে দিয়েছিল বলিউডকে। ১৯৮১ সালে ‘সিলসিলা’ ছবির শুটিংয়ের সময় থেকেই অমিতাভ-রেখার প্রেম শুরু হয় বলে একটা রসালো গল্প রয়েছে বলিউডে। ‘সিলসিলা’ ছবির গল্পটাই যেন সত্যি হয়ে ধরা দেয় অমিতাভ-রেখা-জয়ার জীবনে। তখন থেকেই অমিতাভকে নিয়ে জয়া-রেখার সিলসিলা শুরু যা পর্দা থেকে পর্দার বাইরে এসে সংসদীয় ক্ষেত্রেও চলে এসেছে।