সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আমফান তাণ্ডবে আজ অনেক পাখি নীরহারা। এদিক ওদিক ঘুরে তৈরি করা চেষ্টা করছে নতুন বাসা। ওঁদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিলেন জয়িতা কুণ্ডু কুন্তি। নতুন নীর দেওয়ার চেষ্টা করলেন পাখিদের। ঝড়ের কাছে তাঁর এই বার্তা যেন এক অন্য লড়াইয়ের।

সাইক্লোন নিয়ে গিয়েছে বহু মানুষের মাথার ছাদ। শুধু ছাদ নয় অনেকের পুরো বাড়িটাই ভেঙ্গে দিয়ে গিয়েছে। বাড়াবাড়ি নয়, তবু ওঁদের জন্য রয়েছে সরকারের আর্থিক প্যাকেজ। রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য। পাখিরা ত ‘আত্মনির্ভর’। ওঁরা নিজেদের জায়গা নিজেই বানিয়ে নিতে পারে। প্রকৃতির হামলা সামলাতে তারা অভ্যস্ত। অনেকেই ভাবছেন এমনটাই। ক’জন আর ভাববে ঘরহারা পাখিদের কথা।

বলতেই পারেন, নিজের থাকার ঘর নেই পাখির বাসা তৈরি করি। তাতে অসুবিধা নেই। আপনি না ভাবতেই পারেন। এই নীল গ্রহে এখনও কিছু মানুষ রয়েছে যারা বোঝেন ওঁদের কথা, দাবি, চাহিদা। তেমনই ‘গাছ দিদি’ জয়িতা কুণ্ডু কুন্তি। নিজের দামোদরের তীরের গাঁয়ে একের পর এক বট গাছ রক্ষা করে চলেছেন তিনি। দিয়েছেন নবজীবন।

এবার পাখিদের নয়া নীড় দিতে গিয়ে এলেন সেই ‘গাছ দিদি’। নিজস্ব উদ্যোগ নিয়ে গাছের ওপর রেখে দিচ্ছেন ছোট ছোট কলসি। যাতে সাময়িকভাবে পাখিরা নিজেদের আশ্রয় খুঁজে নিতে পারে সেখানে।

এমনিতেই গাছ কাটা নিয়ে নানা সময় অভিযোগ তোলেন পরিবেশবিদরা। ‘নগরোন্নয়নের’ গেরোয় পড়ে শেষ হচ্ছে প্রকৃতি। সেইসঙ্গে বিপদে পড়েছে প্রাণীজগত। পাখিরাও রয়েছে সেখানে। আমফানের ফলে সেই পাখিদেরই বিশাল ক্ষতি হয়েছে। শুধু কলকাতাতেই ভেঙে পড়েছে কয়েক হাজার গাছ। পাখিরা তো মারা গেছেই; সেইসঙ্গে হারিয়ে গেছে তাদের বাসাও। কাজেই, উদ্বাস্তু জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

এমনই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন জয়িতা কুণ্ডু এবং তাঁর ‘মাধবপুর পরিবেশ ছেতনা সমিতি’। ইতিমধ্যেই তাঁদের বট গাছের ঝুড়ি সংরক্ষণের কাজ প্রশংসা পেয়েছে সব স্তরে। সরকারের কাছেও পৌঁছে গেছে এই উদ্যোগ। এবার আমফানে বিধ্বস্ত পাখিদের জন্যও এগিয়ে এলেন তাঁরা।

উলুবেড়িয়া, চণ্ডীপুর, বাগনানের কালিকাপুর ও গোপালপুরের বিভিন্ন গাছে ছোট ছোট কলসি বেঁধে রেখে এসেছে জয়িতার দল। যাতে অন্তত কিছুটা হলেও পাখিদের বাসার সমস্যা দূর হয়। তবে সবার ভরসা, পাখিরা ঘুরে দাঁড়াবেই। তারা নিজেদের বাসা নিজেরাই তৈরি করে নেবে একদিন। আপাতত সামান্য একটু ক্ষতিপূরণের জন্যই এই বন্দোবস্ত।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প