চেন্নাই: ভয়ঙ্কর সুনামি কেড়ে নিয়েছিল বহু জীবন৷ সেসব দেখে শিউরে উঠেছিলেন শেখর৷ দুঃখের দিনে তাঁর কাছে এসেছিল দুটি বুনো টিয়া৷ যেন মৃত্যুপুরীতে অরণ্যের সবুজ ঝিলিক৷ কোনওরকমে তাদের একটু  খেতে দিয়েছিলেন৷ তখন চারিদিকে ধংস ও মৃত্যুর ছবি৷ তারই মাঝে সেই জোড়া টিয়া বাসা বেঁধেছিল শেখরের কাছে৷ শুরু হল জীবনের গল্প….
১০ বছর পার হয়েছে৷ সুনামির ভয়ঙ্কর মুহূর্ত ভুলতে চেয়েছেন সবাই৷ আর চেন্নাইয়ের ক্যামেরা মেকানিক শেখরকে ঘিরে নিয়েছে সবুজ টিয়ার দল৷ তাদের এখনও খাইয়ে যান শেখর৷ রোজ অন্তত ৪ হাজার টিয়া তাঁর কাছে খেতে আসে৷ ক্রমে ‘বার্ডমান’ হিসেবে পরিচিত হয়েছেন ৬২ বছরের শেখর৷
চেন্নাইয়ের রোয়াপেট্টা এলাকা৷ এখানেই থাকেন শেখর৷ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর বাড়ির চারিদিকে ভিড় করে হাজারে হাজারে টিয়াপাখি৷ বাড়ির কার্নিশে, ছাদে, বিদ্যুতের তার ও খুঁটিতে শুধুই টিয়া আর টিয়া৷ শেখর জানিয়েছেন,  সুনামির পর দুটো আশ্রয়হীন টিয়াপাখি এসে হাজির হয়েছিল৷ তাদের কিছুটা ভাত খাইয়েছিলাম৷ পরে সেই দুটো টিয়া আরও কিছু টিয়াকে টেনে এনেছিল৷ সেই শুরু৷ রোজই টিয়া আসতে শুরু করে৷ এখন এখানে তাদেরই রাজত্ব৷
birdman2পঁচিশ বছর আগে চেন্নাইতে এসেছিলেন ক্যামেরা মেকানিক শেখর৷ চড়ুই, কাক আর কাঠবিড়ালিদের খাওয়ানোর শখ ছিল৷ এখন টিয়াদের খাওয়ানোতেই মগ্ন শেখর৷ বাড়ির ছাদে বিশেষ আয়োজন করেছেন তিনি৷ সেখানেই ভাত দেওয়া হয়৷ তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে টিয়ার দল৷
রোজ ভোর চারটের সময় উঠে পড়েন শেখর৷ বালতি বালতি ভাত রান্না করেন৷ সেই ভাত ছাদে রাখা কাঠার পাটাতনে ছড়িয়ে দেন৷ এরজন্য রোজগারের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হয়ে যায়৷ তাতে কোনও কষ্ট নেই প্রবীণ শেখরের৷ তিনিই টিয়া রাজ্যের মধ্যমণি৷ হাজার হাজার টিয়ার মাঝে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হন প্রতিবেশীরা৷ ছড়িয়ে পড়েছে বার্ডম্যান শেখরের নাম৷ সাহায্য করতে কেউ একদিন এগিয়ে আসবেন৷ মনে করেন শেখর৷ জানিয়েছেন, যতদিন শরীর দেবে ততদিনই তিনি টিয়াদের খাওয়াতে পারবেন৷
birdman4২০০৪ সালের সুনামি দেখেছে তামিলনাড়ু৷ ভয়ঙ্কর মুহূর্ত পার করে ক্রমে স্বাভাবিক হয়েছে এখানকার জনজীবন৷ এখন চেন্নাইবাসী রোজই দেখেন বুনো টিয়াদের সুনামি৷ আকাশে সবুজ ঢেউ তুলে তারা রোজ ভোরে দখল নেয় মহানগরের নির্দিষ্ট মহল্লা৷