দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ভারতের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নামটি যেভাবে যুক্ত তা কি বাঙালি অনুভব করেনি? শ্যামাপ্রসাদ কি শুধুমাত্র জনসঙ্ঘের প্রণেতা হিসাবেই থেকে গিয়েছেন? প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পর্ব শুরু হয়েছে৷ নয়াদিল্লির একটি ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশন বাঙালি মননে শ্যামাপ্রসাদের অবস্থান নিয়ে চর্চা শুরু করেছে৷

তবে উল্লেখযোগ্য, অরাজনৈতিক ওই সংগঠন শুধু শ্যামাপ্রসাদকেই নিয়েই সীমাবদ্ধ নেই – বাংলার নবজাগরণ থেকে আধ্যাত্মবাদ, সাহিত্য-সংস্কৃতি-কৃষ্টি এবং ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসা বাঙালির ঐতিহ্য তাদের আলোচ্য বিষয়৷ বাঙালি কারা? শুধু যাঁরা এই বাংলায় থাকেন বা এখানকার ভূমিপুত্র, তারাই একমাত্র বাঙালি? নাকি বাংলা ভাষাকে যাঁরা মরমে স্থান দিয়েছেন তাঁরাও বাঙালি? বাঙালি কি হিন্দু না মুসলমান? বাঙালির আদৌ কী কোনও ধর্ম রয়েছে? নেতাজী সুভাষ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বিধানচন্দ্র রায় বা জ্যোতি বসু – বহুমুখো বঙ্গ রাজনীতি তাত্ত্বিকদের ভাবিয়েছে৷

১৯০২ সালে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা বঙ্গমাতা তিনবছর পর ভারতমাতায় রূপান্তরিত হয়৷ সেই ভারতমাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আরাধ্যা দেবী ছিলেন৷ তবুও বাঙালী মননে শ্যামাপ্রসাদ যেন কেমন অজানা৷ শ্যামাপ্রসাদের পিতা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ৷’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রভাব যে তাঁর জীবন জুড়ে থাকবে তা বলাই বাহুল্য৷ পরবর্তীকালে দেশের শিল্পমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করেন ১৯৪৮ সালেই৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মাধব সদাশিব গোলওয়ালকরের সঙ্গে আলাপচারিতার পর শ্যামাপ্রসাদ ১৯৫১ সালে তৈরি করেন ভারতীয় জনসঙ্ঘ৷ সংসদে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন৷

কিন্তু শ্যামাপ্রসাদের ভারতীয় জনতা পার্টি একটি দীর্ঘ সময় বাংলায় অবাঙালির পার্টি হিসেবে দুর্নাম কুড়িয়েছে৷ বাংলার গর্ব শ্যামাপ্রসাদ যে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তাদের এই দুর্নামের ভাগী হতে হল কেন তা নিয়েও ইতিমধ্যেই আত্মসমালোচনা শুরু হয়েছে৷ কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশন এগিয়ে এসেছে৷ লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে আবার ফেরাতে ইতিমধ্যেই বাংলায় বিশিষ্টজনেদের মধ্যে অলোচনামূলক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা অনির্বাণ গাঙ্গুলী বাংলার দশদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ বিজেপি সম্পর্কে প্রচলিত মিথ ভেঙে দিতে তিনি বদ্ধ পরিকর৷ ‘‘শেঠ সুখলাল কারনানি না থাকলে কী বি সি রায় এসএসকেএম হাসপাতাল বানাতে পারতেন? বাঙালি-অবাঙালির বিচার এভাবে হয় না৷’’ – জানিয়েছেন অনির্বান৷

গত দেড় বছর ধরে বাংলার দিকে দিকে বাঙালি সমাজে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে চলেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশন৷ ইতিমধ্যেই :SaveBengal নামে প্রচার কর্মসূচী শুরু করা হয়েছে৷ সাধারণ নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই কী এই প্রয়াস? অস্বীকার করেননি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিশিষ্ট সাংবাদিক সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত৷ স্বপনবাবুর মতে, ‘‘আগেই হওয়া উচিত ছিল৷ যাই হোক, এই ধরণের আলোচনা এখন হচ্ছে, সেটা ভালো ব্যাপার৷ বলতে পারি, নির্বাচনের পরেও চলবে৷’’ প্রসঙ্গত বিশিষ্টজনেরা আলোচনা সভায় অংশ নিচ্ছেন৷ স্বপনবাবু তাঁদের মধ্যে একজন৷ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাঙালিদের রাজনৈতিক অবস্থান বা বাংলায় জনমানসে রাজনীতি এবং আধাত্মবাদের ভূমিকা – আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে৷