তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ দেশজুড়ে করোনাতঙ্ক। মারণ এই ব্যাধিতে ভুগছে গোটা দুনিয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষ। তবুও মিলছে না রেহাই। ব্যতিক্রম নয় আমাদের দেশ তথা এরাজ্যও। আক্রান্তের সংখ্যাও প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কবে মিলবে মারণ এই রোগ থেকে মুক্তি এখনও জানা যায়নি তার উপায়।

এই অবস্থায় ‘করোনা’ সতর্কতা হিসেবে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের নিজস্ব লোকপুর ক্যাম্পাস থেকে চক্ষু ও হৃদরোগ বিভাগ সম্পূর্ণভাবে গোবিন্দনগর মূল ক্যাম্পাসে সরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে লোকপুর ক্যাম্পাসে জ্বর, সর্দি, কাশি উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের জন্য ২৫ টি বেড নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১৩ টি ও মহিলাদের জন্য ১২ টি সংরক্ষিত।

এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে কয়েকটি ভেন্টিলেশন সহ আরও ১৫ টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে খুশি সাধারণ মানুষ। কারণ, জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী পুরুলিয়া সহ বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরের একটা বড় অংশের মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন। ফলে সেই সব সাধারণ রোগীদের মধ্যো করোনা সংক্রমণের একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে একেবারে নিশ্চিত করে পুরো ‘করোনা কেয়ার ইউনিট’ ও জ্বর, সর্দি, কাশী উপসর্গের চিকিৎসা বিভাগ পুরোটাই লোকপুর ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত করা হলো।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থ প্রতিম প্রধান বলেন, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ ছিল, তার পাশাপাশি হাসপাতালে আসা অন্য বিভাগে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের ভয়, ভীতি ও সংক্রমণ এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে এক ছাদের তলায় সংক্রমণ সংক্রান্ত চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, করোনার চিকিৎসার চেয়ে বড় কথা সচেতনতা। লক ডাউন মেনে চললে খুব দ্রুত আবারও পুরোনো ছন্দে ফেরা যাবে বলে তিনি জানান।