স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: কেউ এসেছিলেন এদেশে চিকিৎসা করাতে, আবার কেউ এসেছিলেন আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সীমান্ত, বন্ধ পথ। ফলে মহিদীপুর সীমান্তে আটকে পড়েছেন বহু বাংলাদেশী নাগরিক।

করোনা ভাইরাসের কারণে আচমকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। আর এতেই বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চল মহুদিপুর। সেখানেই সীমান্তের পথ খোলার অপেক্ষায় চেয়ে রয়েছেন,পঞ্চাশোর্ধ্ব মুরসেদা বেগম,ইসমাইল হোসেন সহ আরও অনেক বাংলাদেশীরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের এমন সিধান্তে কার্যত আতান্তরে পড়েছেন তাঁরা। এদিন সীমান্তে অপেক্ষারত বাংলাদেশীদের মধ্যে অনেকেই জানান, চিকিৎসার জন্য এই পথ দিয়েই ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন তাঁরা। কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাও করানো হয়ে গিয়েছে। এখন তাদের বাড়ি ফেরার সময়। ভিসার মেয়াদও প্রায় শেষের মুখে। শুধু কি তাই, হাতে টাকাও শেষ। কিন্তু এখন আর দেশে ফিরতে পারছেন না তাঁরা। ফলে তাঁরা আটকে রয়েছেন মালদহের মহদীপুর সীমান্তে। আবার অনেকে ব্যবসার জন্যও এদেশে এসেছিলেন। তাঁরাও আটকে রয়েছেন। ফিরতে পারছেন না দেশে।

ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মালদহ মহদীপুর সীমান্তের কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতরের কর্তারা ভারতে আগত বাংলাদেশীদের দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি বন্ধ করে দিয়েছেন।

যদিও এনিয়ে সংলিষ্ট আধিকারিক সহ জেলার প্রশাসনিক কর্তারা মুখে কুলুপ দিয়েছেন। প্রভাব পড়েছে সীমান্তের বাণিজ্যেও। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ লরি পণ্য বাংলাদেশে রফতানি হতো তা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ১০০থেকে ১২৫ টিতে। ফলে বিপাকে পড়েছেন রফতানিকারকরাও। এই বিষয় নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজরিয়া কোনও মন্তব্য না করলেও, তিনি বিষয়টি রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানান।