স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চোদ্দ ঘন্টা পরও বাগরি বাজারের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। কিছু প্রশ্নও জ্বল জ্বল করছে, যার উত্তরও পাওয়া যায়নি।

এক, বাগরি বাজার শহরের অন্যতম প্রাচীন বাজার। স্টিফেন কোর্ট বা আমরি কান্ডের পর রাজ্য সরকার হাটে বাজার, উঁচু বাড়িতে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল তৈরি করে। বাগরি বাজারেও পৌঁছে গিয়েছিল ওই দল। ইতিমধ্যেই ওই বাজারে উন্নতমানের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তৈরি হয়েছিল বড় reserver। প্রতি দোকানের সামনেই মোটা জলের পাইপ। প্রশ্ন উঠেছে, যখন আগুন লাগলো ওই ব্যাবস্থা কাজে কেন লাগলো না।

দুই, শনিবার রাতেই নাকি দোকানদার এবং বাজার মালিকদের মধ্যে বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে মালিকপক্ষ দোকানদারদের ownership দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে। কিন্তু মাঝরাতের অগ্নিকান্ড সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এটা কি ষড়যন্ত্র।

তিন, অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, বাগাড়িয়া ভাইদের মধ্যে বাজার নিয়ে বিবাদ চলছে। ব্যাবসায়ীরা অনেকেই তাঁদের বিশ্বাস করেন না।

চার, বাগরি বাজারের ছাদে আটটি ২০০০ লিটারের জলাধার রয়েছে। নিচের তলায় রয়েছে আরও কয়েকটি। ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার লিটার জল এবং অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা কেন কাজ করলো না?

পাঁচ, বাগরি বাজারের ছাদের ট্যাংকের জল কিছুদিন আগেই ওই এলাকার উপকারে এসেছে। কিছুদিন আগেই আমড়াতলা লেনের একটি অগ্নিকান্ডে বাগরি বাজারের ছাদ থেকেই জল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার রাতে ট্যাংকের জল কেন ছিল না? কীভাবে ট্যাংক ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল? বাগরির যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারা নাকি পালিয়েছেন। তারা ট্যাংক ভরতি করেননি কেন? নাকি ইচ্ছে করেই ট্যাংক ফাঁকা করা হয়েছিল। এটা কি ষড়যন্ত্রের অংশ?

ছয়, দমকলের ভূমিকায় সন্দেহজনক। চলতি বছরের জুলাই মাসে নাকি দমকলের থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি’ পেয়েছিল বাগরি। সেই এন ওসি ধরেই কলকাতা পুরসভা থেকে অনেক ব্যবসায়ী ট্রেড লাইসেন্সও করিয়ে নিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, বাগরির অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থায় যদি গলদ ছিল তবে , দমকল কীভাবে এনওসি দিয়ে দিল।

বাগরির আগুন থেকে জন্ম হওয়া প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ ও প্রশাসন।