স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: দিন যতই যাচ্ছে ততই যেন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মারন ভাইরাসের দাপটি ত্রাহি-ত্রাহি রব গোটা দেশে। রেহাই নেই, এরাজ্যোরও। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা।

এই অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশে করোনা মোকাবিলায় বন্ধ করে দেওয়া হল বারাকপুরের ঐতিহ্যপূর্ণ অন্নপূর্ণা পুজো। জানা গিয়েছে, করোনার জেরে জমায়েত এড়াতে ঐতিহ্যপূর্ণ ১৫০ বছরের এই প্রাচীন অন্নপূর্ণা মন্দিরে পুজো এবছরেরর জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।

যদিও, বুধবার তিথি অনুসারে নমঃ নমঃ করে কোনও রকমে অন্নপূর্ণা পুজো পালিত হয় প্রসিদ্ধ এই অন্নপূর্ণা মন্দিরে । বারাকপুরের প্রসিদ্ধ গঙ্গা তীরবর্তী অন্নপূর্ণা কালী মন্দিরে সাধারন ভাবেই নমঃ নমঃ করে মায়ের পুজো করেছেন মন্দিরের পুরোহিতরা । তবে এবছর এই মন্দিরে অন্নপূর্ণা পুজো দিতে দেওয়া হয়নি ভক্তদের । কোনও ভক্তকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, সেই সঙ্গে এবছর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোগ বিতরণের অনুষ্ঠানও। মূলত প্রশাসনের নির্দেশে এবছর করোনা মোকাবিলায় বন্ধ রাখা হয় অন্নপূর্ণা পুজোর অনুষ্ঠান ।

১৮৭৫ সালের ১২ ই এপ্রিল রানী রাসমণির কন্যা জগদম্বা দেবী বারাকপুরে গঙ্গার তীরে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন। মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এই প্রথম করোনা মোকাবিলায় মহামারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের নির্দেশে সাড়ম্বরে সার্বিক ভিড় এড়াতে বন্ধ রাখা হল অন্নপূর্ণা পুজোর আনুষ্ঠানিক আয়োজন। শুধু তাই নয়, বন্ধ রাখা হয়েছে ভক্তদের জন্য ভোগ প্রদানের অনুষ্ঠানও।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তপন চক্রবর্তী বললেন,”টিটাগড় থানার পুলিশের পক্ষ থেকে মন্দিরে এসে জমায়েত রুখতে এবছর সার্বিক ভাবে অন্নপূর্ণা পুজো বন্ধ রাখতে আমাদের অনুরোধ করা হয়েছিল । যেহেতু প্রত্যেকবারই অন্নপূর্ণা পুজোর দিন এই মন্দির থেকে অসংখ্য মানুষকে ভোগ বিতরণ করা হয়, তাই প্রচুর মানুষের জমায়েত হয় পুজোর দিন। ভিড় বাড়লে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে, তাই ঘটনার গুরুত্ব বুঝেই আমরা এবছর অন্নপূর্ণা পুজো নমঃ নমঃ করে দিয়েছি । কিন্তু কোনও ভক্তকে বা সাধারন মানুষকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না । সর্ব সাধারণের জন্য এবছর বন্ধ করে দেওয়া হল অন্নপূর্ণা পুজো । মন্দিরের দরজা ভক্তদের সুরক্ষার কথা ভেবেই বন্ধ রাখা হয়েছে ।”