মুম্বই: মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবং শিবসেনার জোট হচ্ছেই৷ জানিয়ে দিয়েছে শিবসেনা৷ ২২ সেপ্টেম্বরের আগেই ওই জোট ঘোষণা হবে বলেও জানিয়েছে সেনা৷ উল্লেখ্য, ২২ সেপ্টেম্বর রাজ্যে জনসভা করতে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ অমিতের উপস্থিতিতেই ওই জোট ঘোষণা হবে বলে আশা করছে সেনা৷

শিবসেনা সম্পাদক অনীল দেশাই বলেছেন, চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে আর কিছু দিনের মধ্যেই৷ শিবসেনা এবং বিজেপির জোট নিয়ে মহারাষ্ট্রে আলোচনা তুঙ্গে। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সেনা-বিজেপির আসন সমঝোতা ঠিক কোন পর্যায়ে শেষ হবে তা-ই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার বিষয়৷ যা খবর পাওয়া যাচ্ছে, বিজেপি ১৬০ টি আসন চাইছে। শিবসেনাকে তারা ১১০টি আসন দিতে চাইছে।

বিজেপি চাইছে, অন্যান্য জোটসঙ্গীরা ১৮টি আসনেই সীমাবদ্ধ থাক। শিবসেনার দাবি একটু ভিন্ন। তারা ১২৬টি আসন চাইছে। তারা চাইছে ১৬২টি আসনের মধ্যে থেকেই ছোট জোট শরিকদের আসন দিয়ে দিক। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় ২৮৮টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে বিজেপির ১২২টি এবং সেনার দখলে ৬৩টি।

বিজেপি সেনার প্রথম বৈঠক হয়েছিল রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রকান্ত পাটিলের বাড়িতে। সেখানে সেনা নেতৃত্বের তরফে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী সুভাষ দেশাই। এক সিনিয়ার শিব সেনা নেতা সংবাদমাধ্যমকে এরপর জানিয়ে দেন একটি ফর্মুলার কথা। খুব সহজ ফর্মুলা। বিজেপি ১৬২টি আসনে লড়াই করুক। সেনা করবে ১২৬টি আসনে। (১+৬+২) যোগ করে ৯ সংখ্যাটি আসে। অন্যদিকে, (১+২+৬) যোগ করেও ৯ সংখ্যাটি আসে।

সুতরাং, এটাই হওয়া উচিত জোট রসায়ন। কিন্তু কেন? শিবসেনার যুক্তি, শিবসেনার জন্য ৯ হলো ‘লাকি’ সংখ্যা। কিছু না কিছু ভালো হবেই। শিবসেনার যুক্তি, বিজেপি কে ১৬২ টি আসন দেওয়া হয়েছে। সেই আসন থেকেই তারা অন্যান্য ছোট জোট শরিকদের আসন বন্টন করুক। কারণ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই দলগুলি বিজেপির জোট শরিক ছিল। বিজেপি অবশ্য সেনাকে ১১০ টি আসন দিতে চায় না। ৯৮টি আসনের একটিও বেশি নয়। বলেছেন এক বিজেপি নেতা।

এদিকে, এনসিপি প্রধান শরত পাওয়ার ৮০ বছর বয়সে এই প্রথম বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি৷ অনেক এনসিপি বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করেছেন৷ শরতের অভিযোগ, ইডি-এর ভয় দেখিয়ে ওই বিধায়কদের বিজেপিতে টানা হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার কথাও জানিয়েছেন পাওয়ার।