স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : দোল উৎসব নিয়ে সার্ফ এক্সেলের বানানো একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া৷ বিজ্ঞাপনটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখাতে গিয়ে আদপে বিভাজনের কথাই বলা হয়েছে, এমনটাই মনে করছেন বাংলাভাষার স্বনামধন্যা কবি মন্দাক্রান্তা সেন৷

বাংলা কবিতার এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রতিবাদি কবি সুবোধ সরকার বিজ্ঞাপনটি নিয়ে বলেন, ‘‘দোল একটি উৎসব৷ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন রঙ যেন মর্মে লাগে৷ আমি বলব দোলের রঙ যেন ধর্মে না লাগে৷’’

দোল উৎসব নিয়ে বানানো সার্ফ এক্সেলের ভিডিওটি সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘ব্যান সার্ফ এক্সেল’ ট্রেন্ডিং শুরু হয়েছে৷ সার্ফ এক্সেলের অফিসিয়াল ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে সেখানেও নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রচুর ফেসবুক ইউজার৷ কিন্তু বিরোধটা কোথায়? কী এমন রয়েছে এই ভিডিওতে?

ভিডিওটিতে একটি গল্প বলা হয়েছে৷ দোলের দিন সকালে কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে দোল খেলতে শুরু করছে৷ হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে সাইকেলে এসে সবাইকে উৎসাহ দেয় তাকে রঙ মাখাতে৷ দুদিকের ছাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা ওই সাইকেলে থাকা মেয়েটির উপর রঙ ভর্তি বেলুন ও পিচকারির রঙ ছুঁড়ে শেষ করে ফেলে৷ ঠিক তখন সেই বাচ্চা মেয়েটি একটি বাচ্চা ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে বার করে যে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য সাদা জামা পরে তৈরি ছিল৷ সাইকেলের বাচ্চা মেয়েটি এরপর এই মুসলিম শিশুটিকে মসজিদ অবধি পৌঁছে দেয়৷

এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেখানো হয়েছে দোল উৎসবে মুসলমানদের অসুবিধা হয়, এমনটাই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশের৷ তাদের প্রশ্ন দোলের রঙে আল্লার ইবাদতে অসুবিধে কেন হবে?

ভিডিও দেখার পর মন্দাক্রান্তা সেন, সুবোধ সরকারের মতো কবি তাঁদের মতো করে বিষয়টিকে বর্নণা করেছেন৷ মন্দাক্রান্তার বক্তব্য, ওদের বিজ্ঞাপনের ট্যাগ লাইন, ভালো কাজের জন্য হলে দাগ ভালো৷ তাই যদি হবে তাহলে ওইটুকু শিশুটিকে রঙের দাগ বাঁচিয়ে নামাজ পড়তে যেতে হবে কেন৷ দোল একটি উৎসব, এর সঙ্গে ধর্মের তেমন সরাসরি যোগাযোগ নেই৷ এই বিজ্ঞাপনটি কি শৈশবেই দুটি শিশুর মধ্যে আলাদা করে ধর্মের বিভেদ ঢুকিয়ে দিচ্ছে না? পুরো বিজ্ঞাপনটিতেই বিষয়বস্তুর মধ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখাতে গিয়ে আদপে বিভাজনের কথাই বলা হয়েছে এই বিজ্ঞাপনটিতে৷