স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: ফের প্রশাসনের মানবিক ‘মুখ’-এর সাক্ষী থাকল বালুরঘাট৷ রাস্তায় পড়ে থাকা জখম বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন জেলার প্রশাসনিক প্রধান৷ স্বতঃস্ফূর্তভাবে চিকিৎসার যাবতীয় ভারও গ্রহণ করলেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ৫১২নম্বর জাতীয় সড়কের মনিপুর এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় জখম হয়েছিলেন এক বৃদ্ধা। এলাকার মানুষ ঘটনায় ছুটে এলেও প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার গাড়ি পাচ্ছিলেন না৷ জাতীয় সড়ক দিয়ে দ্রুত বেগে একাধিক গাড়ি ছুটে গেলেও ঝামেলা এড়াতে কোনও গাড়িই সেখানে দাঁড়ায়নি৷ সেই সময় ওই রাস্তা দিয়েই ফিরছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী৷

ভিড় দেখে তিনি গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন গাড়ি থেকে৷ অসহায় জখম বৃদ্ধাকে দেখে একমুহূর্তও সময় নষ্ট না করে স্থানীয়দের সঙ্গে হাত লাগিয়ে বৃদ্ধাকে নিজের গাড়িতে তুলে নেন৷ সোজা বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান বৃদ্ধাকো৷ শুধু তাই নয় বৃদ্ধার চিকিৎসা ও অন্যান্য যে কোনও সমস্যায় সাহায্যের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন৷ এব্যাপারে বালুরঘাটের বিডিও’কে দায়িত্ব দিয়ে তবেই সেখান থেকে অফিসে ফিরেছেন জেলাশাসক৷

হাসপাতালের সুপার ডাঃ তপন বিশ্বাস জানিয়েছেন, জখম বৃদ্ধা গীতা বর্মণের(৭০) বাড়ি মাঝিয়ান গ্রামে। সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুটা দূরে মনিপুরে পান কিনতে গিয়েছিলেন৷ সেই সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে উলটো দিক দিয়ে আসা একটি টাটাসুমো তাঁকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। সিটি স্ক্যান করলে বৃদ্ধার মাথায় ইন্টারন্যাল হেমারেজ ধরা পড়ে। কোমরের হারেও চির ধরেছে। সময় মতো তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছানো না হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল৷

জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী জানিয়েছেন, ‘‘গঙ্গারামপুরে একটি অনুষ্ঠান তিনি বালুরঘাটে ফিরছিলাম। ফেরার সময় মনিপুরে রাস্তায় প্রচুর মানুষের ভিড় দেখে গাড়ি থামায়৷ সচেতন নাগরিক হিসেবেই ওঁনাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি৷’’ সপ্তাহ তিনেক আগে জাতীয় সড়কের হাজিপুর এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকা জখম বৃদ্ধাকে হাসপাতালে পৌঁছে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন রমেশ বর্মন নামের সামান্য এক ভ্যানচালক। এবার সেই তালিকায় ঢুকে পড়লেন জেলাশাসকও৷ প্রমাণ করলেন, প্রশাসনের সকলে ‘অ-মানবিক’ নয়৷