স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ঘর ভরতি আত্মীয়৷ বরের সাজে হাজির ছেলে৷ দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন বিয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে৷ লগ্ন প্রায় বয়ে যায়৷ বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাবে কনে৷ আর ঠিক তখনই ঘটল বিপত্তি৷ না, বর বা কনে কেউই পালিয়ে যায়নি৷ ছাদনাতলায় হাজির ছিল বর-কনে৷ পুরোহিত বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু করবে৷ এমন সময় হাজির হল একদল মানুষ৷

তবে তারা বরের বা কনের পক্ষের কেউ নন৷ তাঁরা হলেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন৷ তাঁরাই এসে বিয়ে বন্ধ করে দেন৷ এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে কেন এমন ঘটল? এই ঘটনার একমাত্র কারণ কনে এখনও নাবালিকা৷ তার বয়স মাত্র ১৭ বছর৷ প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় সরকারি নিয়ম অনুসারে বিয়ে নিষিদ্ধ৷ তাই, পুলিশ-প্রশাসন পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে বন্ধ করার ব্যবস্থা করেন৷

দিঘার পদিমা ১ পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ১৭ বছরের অন্নপূর্ণা দলাই৷ তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল রবিবার রাতে৷ মেয়ে দেখতে ভাল৷ তাই মেয়ের বিয়ের জন্য তার বাবার কাছে বারবার প্রস্তাব আসছিল৷ ওই নাবালিকা দিঘা দেবেন্দ্রলাল শিক্ষাসদন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী৷ তার বিয়ের জন্য এদিন প্রায় সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ করা হয়েছিল৷ কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় রামনগর ১ ব্লকের বিডিও ও দিঘা থানায় খবর আসে নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ সেই মত বিডিও আশিস রায় নিজেই রাতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান নাবালিকার বাড়িতে৷

নাবালিকার বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় ১৮ বছর না হলে বিয়েতে বসানো যাবে না৷ প্রশাসন বুঝিয়ে এই বিয়ে বন্ধ করে দেয়৷ তার লেখাপড়ার জন্য সমস্ত ধরনের সুযোগ-সুবিধা যেমন কন্যাশ্রী, সবুজশ্রী, শিক্ষাশ্রী পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন৷ আর এই আশ্বাসে নাবালিকাও বেশ খুশি৷

আরও পড়ুন : “সব হিন্দুদের বিজেপিকে ভোট দেওয়া উচিত”

এই প্রসঙ্গে দিঘা থানার ওসি বাসুকিনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ দিয়ে যাচ্ছেন৷ যাতে মেয়েরা ভালো করে পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হতে পারে৷ আর এই সব করার একমাত্র কারণ প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই তারপর বিয়ে করুক মেয়েরা৷ রাজ্য সরকারের চিন্তাভাবনাকে মান্যতা না দিয়ে নাবালিকা স্কুলছাত্রীর বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িয়ে গিয়ে দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে স্থগিত রাখা হয়৷ মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তারপর তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহ হবে৷ ছাত্রীটি যাতে এখন ভালো করে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য সরকারি অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয় বলে জানানো হয়েছে তাদের৷’’