প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: পাহাড়পুরের সেই বৃদ্ধ রাজেন রায়ের আর্জি শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পাহাড়পুরে জলের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা পৌঁছলেন জলপাইগুড়ি৷ ওই বৃদ্ধের সঙ্গে অঞ্চলের প্রধান সহ পঞ্চায়েত সদস্য ও কর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বৈঠকে বসেছেন৷ রয়েছেন এডিএম জেলা পরিষদ অম্লান জ্যোতি সাহা, সদর বিডিও তাপসী সাহা সহ উচ্চপদস্থ বিভিন্ন আধিকারিক ও কর্মীরা৷

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয় ভেদ করেই মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে ঢুকে পড়েছিলেন এক বৃদ্ধ। নাম রাজেন রায়৷ জলপাইগুড়ি সংলগ্ন পাহাড়পুরের বাসিন্দা তিনি৷ এলাকার পানীয় জল-সঙ্কটের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতেই এই ঘটনা ঘটান তিনি৷

একটি কাগজে সেই সমস্যার কথা লিখে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলেও দেন৷ মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছিল জলপাইগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের গোশালা মোড় এলাকায়৷ আর সেই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে বুধবারই জলপাইগুড়িতে ওই বৃদ্ধের কাছে পৌঁছলেন প্রশাসন আধিকারিকরা৷ মঙ্গলবার রাজেনবাবুর চিঠিটি হাতে তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর কনভয় ছোটে চ্যাংরাবান্ধ্যার পথে৷ রাজেনবাবু নিরাপত্তারক্ষীদের এড়িয়ে এই সাহসিকতার কাজে অবাক রাস্তার দু’ধারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা। রাজেন রায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত৷ এলাকার পানীয় জল সমস্যা নিয়ে নাজেহাল সকলে৷ যেদিন শুনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এলাকা ধরেই যাবেন সেদিনই ঠিক করে ফেলেন পানীয় জলের সমস্যার কথা অন্য কোনও মন্ত্রী-আমলাকে নয়, জানাবেন মুখ্যমন্ত্রীকেই৷

জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরের ১৮/২২১ নম্বর বুথের কৃষক রাজেন রায়। এলাকায় তীব্র পানীয় জল সংকট। পঞ্চায়েত থেকে কুয়োর ব্যবস্থা করেছে ঠিকই৷ কিন্তু সে জল বড় নোংরা৷ ঘরের কাজ করা যায়৷ পান করা যায় না৷ বিশ্বাস ছিল, ‘দিদি’ তাঁকে ফেরাবে না৷ বৃদ্ধ মঙ্গলবার জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু তা যে পরদিন অর্থাৎ বুধবারই হবে তা ভাবেননি রাজেনবাবু৷খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে৷ পানীয় জলের প্রকল্প তৈরি করবে পিএইচই৷ এতে খুশি রাজেনবাবু সহ ওই এলাকার বাসিন্দারাও৷