স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: ভূমিহীনদের পাট্টা দিল প্রশাসন। মহম্মদবাজারের টুরকু হাঁসদা সভাকক্ষে অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা ভূমি আধিকারিক পূর্ণেন্দু মাজি প্রাপকদের হাতে পাট্টাগুলি তুলে দেন।

জঙ্গল মহলের অন্তর্ভুক্ত মহম্মদবাজার ব্লক উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কারণ একমাত্র ব্লক মহম্মদবাজার যেখানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি পরতে হয়েছিল শাসক দলকে। তাই বিশ্ব আদিবাসী দিবস থেকে পাট্টা বিলি সবই হচ্ছে আদিবাসী অধ্যুষিত মহম্মদবাজারকে ঘিরে। প্রায় সাড়ে ১২ একর জমি কৃষি কাজের জন্য, কাউকে বাড়ি করার জন্য এলাকাবাসীর হাতে তুলে দেওয়া হল।

মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির ১২ টি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রাপকদের হাতে এই পাট্টা তুলে দেওয়া হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাট্টা পায় সেকেড্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২ জন। চরিচা এলাকায় ১৪ জন ও আঙ্গারগড়িয়া পঞ্চায়েতে মাত্র একজন। জমির পরিমাণ হিসাবে সবচেয়ে বেশি জমি বিলি করা হয়েছে চরিচা পঞ্চায়েতে। সেখানে ২২৭ ডেসিমেল জমি এলাকার আদিবাসী থেকে সাধারণ গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য সাঁইথিয়ার জনসভা থেকে তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল দলীয় কর্মীদের পঞ্চায়েত ভিত্তিক পরিষেবা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। সামনের লোকসভা নির্বাচনে এই সরকারি সুবিধা গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছে দিয়ে পঞ্চায়েতে নিজের হাতে ভোট না দিতে পারার আফসোস তিনি মেটাতে চাইছেন। অনুব্রত বাবু জানান, পঞ্চায়েতে এলে কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন না। দরকার হলে তাদের অফিসে বসিয়ে চা খাওয়ান। তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করুন। সেই নির্দেশের পদক্ষেপ মহম্মদবাজার থেকে শুরু হল। কারণ জঙ্গল মহলের আদিবাসীরা যে কারণেই হোক শাসক দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

টুরকু হাঁসদার পাট্টা বিলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর ভূমি আধিকারিক রবিউল ইসলাম, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মাহারা, মহম্মদবাজার বিডিও আশিস মণ্ডল, ব্লক ভূমি আধিকারিক, সঞ্জীব হালদার৷ পূর্ণেন্দু মাজি জানান, যারা পাট্টা পেলেন তারা ওই জমিতে বাংলা আবাস যোজনায় ঘর তৈরি থেকে একগুচ্ছ প্রকল্পের সুযোগ পাবেন। আপনারা আবেদন করলেই আবাস যোজনার ঘর পাবেন। তিনি পাট্টা প্রাপকদের মনে করিয়ে দেন পাট্টা পাওয়া জমি যেন হস্তান্তর হয় না। কেউ সেই জমি কোনও অবস্থাতেই জোড় করে কেড়ে নিতে পারবে না। তেমন ঘটনা ঘটলে সরকার পাট্টা প্রাপকদের জমি রক্ষার উদ্যোগ নেবে।