স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণের ১ কোটি ৫৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন গুড় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তাতে নাম জড়িয়েছে এক হিমঘর মালিকের। ঘটনার বিষয়ে ব্যাংকের তরফে মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। কিন্তু, অভিযুক্তদের কেউই গ্রেফতার হয়নি। অভিযুক্ত হিমঘর মালিক আগেই জামিন পেয়েছেন৷

গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন গুড ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র দাস৷ বর্ধমান শহরের নতুনগঞ্জে তাঁর বাড়ি৷ বুধবার সেই আবেদনের শুনানি হয়। সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল জামিনের বিরোধিতা করেন। ব্যাংকে বন্ধক রাখা গুড় কিভাবে হিমঘর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে দিয়েছেন তা আদালতে উল্লেখ করেন সরকারি আইনজীবী। আইনজীবী অজয় কুমার দে জামিনের সওয়ালে বলেন, গুড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যাংকের সমস্যা মিটে গিয়েছে। ব্যবসায়ী ঋণের টাকা শোধ করে দিয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা লিখিতভাবে জানিয়েও দিয়েছে। সওয়াল শুনে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর আগাম জামিন মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা বিচারক শেখ মহম্মদ রেজা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে চাষিদের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির মেমারি শাখা ২০ জন গুড় ব্যবসায়ীকে ৯ লক্ষ টাকা করে ঋণ মঞ্জুর করে। এ নিয়ে ব্যাংক, হিমঘর ও ব্যবসায়ীদের একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, চাষিদের কাছে কেনা গুড় হিমঘরে মজুত রাখবেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া গুড় বিক্রি করতে পারবে না চাষি অথবা ব্যাংক। কিন্তু, হিমঘরে মজুত রাখা গুড় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যবসায়ীরা ব্যাংককে না জানিয়ে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ব্যাংক তদন্তে নামে। হিমঘরে গুড় দেখতে পায়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গুড় বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা ঋণের টাকা পরিশোধও করেননি। ২০১১ সালের শেষদিকে ব্যাংকের পাওনা হয় ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৪ হাজার ৯৭৫ টাকা। ব্যাংকের ম্যানেজার দেবব্রত রায় ২০ জন ব্যবসায়ী ও হিমঘর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার ভিত্তিতে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ধারায় মামলা রুজু হয়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ