নয়াদিল্লি: বয়স ৮০ ছুঁইছুঁই৷ চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বহুদিন আগেই৷ কিন্তু, কাজ থেকে অবসর নেননি৷ বলা ভাল অপরের জন্য কিছু করার লোভ তিনি সামলাতে পারেননি৷ তাই, অবসরের বয়সে চার দেওয়ালের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে নেমে পড়েছেন পথে৷ আগে ব্লাড ব্যাংকেরই কর্মী ছিলেন৷ আর অবসরের পর নিজেকেই নিজে নিয়োগ করেছেন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে৷ নিজেকে নিয়োজিত করেছেন দুঃস্থ মানুষদের সেবায়৷ তিনি ওঙ্কাররনাথ শর্মা, বয়স ৭৯৷

এই বয়সেও তিনি স্বপ্ন দেখেন৷ তাঁর স্বপ্ন, দুঃস্থদের জন্য মেডিসিন ব্যাংক তৈরি করা৷ আর সেই স্বপ্নকে সফল করতে নেমে পড়েছেন রাজধানীর রাজপথে৷ এ মহল্লা থেকে ও মহল্লা৷ এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি৷ উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের থেকে সব রকমের ওষুধ সংগ্রহে এখন ব্যস্ত তিনি৷ ২০০৮ সাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার দূরত্ব তিনি হেঁটে অতিক্রম করেন৷ কিন্তু, কেন হঠাৎ দরিদ্রদের জন্য মেডিক্যাল ব্যাংক গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাঁর মাথায় এল? ‘মেডিসিন বাবা’র কথায়, লক্ষ্মীনগর এলাকায় নির্মীয়মান দিল্লি মেট্রো ব্রিজ যখন ভেঙে পড়েছিল, সেই সময় বহু মানুষকে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে ভুগতে দেখেছেন৷ স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে অনেককে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যেতেও দেখেছেন৷ এর পর থেকেই, তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই নতুন পথে চলার৷

- Advertisement -

সংগৃহীত ওষুধগুলি নিজের মঙ্গলাপুরির ভাড়া বাড়ির একটি ছোট্ট ঘরে রাখেন৷ আর প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত তা দরিদ্রদের দিয়ে থাকেন৷ শুধু তাই নয়, এইমস, রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল, দীন দয়াল উপাধ্যায় হাসপাতাল ছাড়াও বহু আশ্রমেও দিয়ে থাকেন তাঁর জমানো ওষুধগুলি৷ তবে, শুধু দরিদ্রদের ওষুধ দিয়ে সেবা করাই নয়, দরকারি ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে ফেলে দেওয়ার আগে সবাই যাতে দু’বার ভাবে সেই সম্পর্কে সচেতন করাও তাঁর উদ্দেশ্য৷ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি৷ ক্যান্সার ও কিডনির রোগে যাঁরা ভুগছেন, যাঁদের সামর্থ্য নেই চিকিৎসা করার, তাঁদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন এই বৃদ্ধ৷ এই সব মানুষদের জন্য অর্থ সংগ্রহের জন্য মাঝে মাঝে বাসে, ট্রামেও দেখা যায় তাঁকে৷ আর তাঁর থেকে ওষুধ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষগুলিই এখন ওঙ্কারনাথ শর্মার পথের পাথেয়৷